প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিশোরগঞ্জ, ৮ আগস্ট, ২০২৬: হাওর ও জলাভূমিতে মিঠাপানির দেশীয় মাছের প্রজনন এবং উৎপাদন বৃদ্ধি করার জন্য নতুনভাবে মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
আজ দুপুরে জেলার কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউট মিনি স্টেডিয়ামে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ভেন্যু পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় এ তথ্য জানান।
এ ক্ষেত্রের অন্য একটি বিষয় হলো, জলমহালের প্রচলিত ইজারা ব্যবস্থা পরিবর্তন করে স্থানীয় জনগণের স্বার্থ রক্ষায় নতুন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ আরও বলেন, একসময় দেশের হাওর-বাঁওড়, নদী-নালা এবং জলাভূমিতে প্রচুর দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু সময়ের পরিবর্তন ঘটার কারণে কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার, মাছের আবাসস্থল বিনষ্ট হওয়া এবং প্রাকৃতিক অভয়াশ্রমের হ্রাস হওয়ার কারণে মিঠাপানির দেশীয় মাছের প্রাচুর্য কমে গেছে।
এই পরিস্থির মোকাবেলার জন্য সরকার হাওর ও জলাভূমিতে মাছের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। মন্ত্রী বলেন, সরকারী উদ্যোগে বড় গর্ত বা গভীর জলাধার তৈরি করে সেখানে মাছের প্রজনন এবং সংরক্ষণের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, যদি মাছের ডিম এবং পোনা রক্ষা করা যায়, তাহলে প্রাকৃতিকভাবে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এ লক্ষ্যে মিঠাপানির মাছের অভয়াশ্রমভিত্তিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা আরও জোরদার করার কথা উঠেছে।
মাছের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়, এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। সমুদ্রের পানি এবং সামুদ্রিক মাছেও মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণা এবং সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেও জানান মন্ত্রী।
আরও উল্লেখ করেন, মাইক্রোপ্লাস্টিকের বিষয়ে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমও গুরুত্বপূর্ণ।
মৎস্যসম্পদ এবং জলজ জীববৈচিত্র্য ধ্বংসকারী ‘চায়নাদুয়ারি জাল’ বন্ধের সরকারি উদ্যোগ সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, এসব জালে ছোট পোনা থেকে বড় মাছ এমনকি বিভিন্ন জলজ প্রাণীও ধরা পড়ে। এর ফলে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন এবং জলজ জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, এ ধরনের জালের ব্যবহার বন্ধের জন্য প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন।
উল্লেখযোগ্য যে, প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ করা হলে সংশ্লিষ্ট মৎস্যজীবীদের জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনা করা হয়। সেই কারণে বিভিন্ন এলাকায় মৎস্যজীবীদের তালিকা করা হয়েছে এবং খাদ্যসহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
মন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমরা চাই, বাংলাদেশের ঐতিহ্য মাছের দেশ হিসেবে আবার ফিরিয়ে আসুক। হাওর, নদী এবং জলাভূমিতে দেশীয় মাছের প্রাচুর্য ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে।’
তিনি আরও জানান, স্থানীয় জনগণের স্বার্থ এবং কৃষি ও মৎস্যসম্পদের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে নতুন ব্যবস্থার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আইন প্রণয়নের কাজ চলছে এবং পরবর্তী সময়ে সংসদে আইন উপস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের যে উদ্দেশ্য, তা হচ্ছে আগামী প্রজন্মের জন্য মৎস্যসম্পদ এবং জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে সরকারের পাশাপাশি জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
এর আগে সকালে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ এর কর্মসূচির প্রস্তুতি দেখতে মন্ত্রী পাকুন্দিয়া উপজেলার থানার ঘাট ঈশাখাঁ ব্রিজ সংলগ্ন পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ, বাহাদিয়া পাঠানবাড়ি ঘাট এবং মির্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাটে ২০২৬ সালের জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে পোনা মাছ অবমুক্তির সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেন।
এই সময় তিনি পোনা মাছ অবমুক্তির সার্বিক প্রস্তুতি এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেন।
পরিদর্শনকালে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এমপি, কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত সচিব সৈয়দা নওয়ারা জাহান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার রূপম দাস, কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা আফরোজ মারলিজসহ মন্ত্রণালয়, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং মৎস্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন