প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিয়েভ, ইউক্রেনের রাজধানীতে বুধবার একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুইজন প্রাণ হারিয়েছেন। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন শহরের মেয়র। এর আগে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, কিয়েভের দিকে ‘বড় ধরনের হামলা’ আসছে।
শীতের মৌসুম ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে রাজধানীতে হামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। রুশ হামলার আশঙ্কা জানাতে প্রায় সব সময় সাইরেন বাজছে। বুধবার ভোরে সামরিক বাহিনী কিয়েভসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সতর্কতা জারি করে। এর পরেই বাসিন্দারা মেট্রো স্টেশনে আশ্রয় নিতে শুরু করেন। অনেকেই সঙ্গে নিয়ে যান বড় ব্যাগ, ঘুমানোর মাদুর ও কম্বল।
ব্যাংকে কর্মরত ইরিনা রিবালচেঙ্কো বলেন, "আমরা আমাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে এখানে চলে এসেছি। আমরা এখান থেকে একেবারে পাশেই থাকি।" তিনি আরও বলেন, "পুরো কিয়েভ এখন আতঙ্কের মধ্যে আছে। আজ আমরা কর্মস্থলে আটকে পড়েছিলাম। সবাই—আমাদের দলের সদস্যরা, এমনকি কর্মকর্তারাও—বার্তা পাঠিয়ে আমাদের সাবধানে থাকতে বলছিলেন।"
রুশ হামলা মূলত জ্বালানি অবকাঠামো এবং রেল ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করছে। এর মধ্যে দিনিপ্রো নদীর দুই পাড়ে বিস্তৃত কিয়েভকে যুক্ত করা সেতুগুলোও রয়েছে। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো জানান, বুধবারের হামলায় ঘনবসতিপূর্ণ দারনিতস্কি এলাকায় আগুন লাগার ফলে দুইজন নিহত হয়েছেন।
তিনি বার্তায় উল্লেখ করেন, "আগুন নেভানোর সময় দুইজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত দুইজনের মরদেহ পাওয়া গেছে।"
জেলেনস্কি বাসিন্দাদের বিমান হামলার সাইরেনের দিকে নজর রাখতে সতর্ক করেছিলেন। রাতে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, "রাশিয়া বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে—এ বিষয়ে আমাদের কাছে নতুন গোয়েন্দা তথ্য আছে।" তিনি আরও বলেন, প্রতিরোধ ব্যবস্থা জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।
জেলেনস্কির ভাষণের কিছুক্ষণ পর কিয়েভের কিছু এলাকায় নির্ধারিত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতে শহরের কিছু অংশ অন্ধকারে ডুবে যায়।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানায়, একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কিয়েভের দিকে আসছে। সামরিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন মাধ্যমও বড় ধরনের রুশ হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, এ হামলায় ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি দ্রুতগতির জেটচালিত ড্রোন ব্যবহার করা হতে পারে।
৩৬ বছর বয়সী দারিয়া মেদভেদেভা বলেন, "শিশুরা ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিল। যখনই ব্যাপক গোলাবর্ষণ হয়, আমরা মাটির নিচে যাওয়ার চেষ্টা করি।" বুধবার ভোরে কিয়েভে অবস্থানরত এএফপির এক সাংবাদিক পরপর কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন।
ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সুমি অঞ্চলে রুশ ড্রোন হামলায় দুইজন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে ৭, ১৪ ও ১৬ বছর বয়সী তিন শিশুও রয়েছে। একটি ফ্ল্যাটে হামলা হলে তারা আহত হয়।
গত সপ্তাহে কিয়েভের মেয়র সতর্ক করে বলেছিলেন, রাজধানীকে এখন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। কারণ সেতু ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালিয়ে শত্রুরা ‘কিয়েভকে ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে’।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী আরও জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়ায় একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র যাচ্ছে। সেখানে হামলায় যোগাযোগ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন