প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নিরপেক্ষ মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের জন্য যৌক্তিক ও ন্যায্য ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্ধী আমিন। তিনি উল্লেখ করেছেন, শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের আলোচনার মাধ্যমে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য মজুরি নির্ধারণ করা হবে। বোর্ড জানিয়েছে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হবে।
বুধবার রাতে সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দেশের সার্বিক শ্রম পরিস্থিতি নিয়ে শ্রমিক, মালিক ও সরকারের ত্রিপক্ষীয় জরুরি সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্ধী আমিন।
মজুরি বোর্ডের ওপর তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বোর্ডের শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা নিরপেক্ষভাবে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে গ্রহণযোগ্য, যৌক্তিক ও ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ করবেন। বোর্ড গঠনের পর দ্রুত প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয় বৈঠকের তারিখও অল্প সময়ের মধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে নিবিড়ভাবে কাজ করে ডিসেম্বরের মধ্যেই পোশাকশ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হবে।
মাহ্ধী আমিন আরও বলেন, নতুন মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় শ্রমিকদের স্বার্থ, পোশাকশিল্পের স্বার্থ এবং দেশের জাতীয় স্বার্থ—সবকিছুই বিবেচনায় রাখা হবে। শ্রমিকদের শ্রম ও ঘামের ওপর ভর করেই বিশ্বজুড়ে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পরিচিতি পেয়েছে। তাই সরকার সব সময় আন্তরিকতার সঙ্গে তাঁদের পাশে থাকবে।
ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি ও পোশাকশিল্পকে এগিয়ে নিতে শ্রমিক, মালিক ও সরকারকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পোশাকশিল্পের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশে পোশাকশিল্পের যাত্রা শুরু হয়। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে এ খাতের ব্যাপক উন্নয়ন ও বিকাশ ঘটে। সেই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি ও নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। আগে পাঁচ বছর পরপর মজুরি বোর্ড গঠন করা হলেও এবার তিন বছরের ব্যবধানেই নতুন বোর্ড পুনর্গঠন করা হয়েছে।
মাহ্ধী আমিন বলেন, শ্রমিক, মালিক ও সরকার একসঙ্গে কাজ করলে পোশাকশিল্পের অগ্রগতি কেউ বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। বৈঠকে যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ ও সহযোগিতার মনোভাব দেখা গেছে, তা প্রতিটি কারখানায় বজায় রাখতে হবে। আগামীকাল থেকেই শ্রমিকেরা স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে মজুরি বোর্ডের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলবে।
পোশাকশিল্পে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি এই শিল্পকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পিত অপচেষ্টা দেখা যাচ্ছে। শান্তিপূর্ণ শ্রমিকদের মধ্যে কিছু বহিরাগত ঢুকে উসকানি দিচ্ছে এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। কিছু সহিংসতা ও নাশকতার ঘটনাও ঘটেছে, যার সঙ্গে সাধারণ শ্রমিকেরা জড়িত নন বলে দাবি করেন তিনি।
সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে মাহ্ধী আমিন বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ধৈর্য ও আন্তরিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। তারা প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।
শ্রমিকদের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলনসহ দেশের ইতিহাসের প্রতিটি পরিবর্তনে শ্রমিক সমাজের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিভেদ ভুলে সবাইকে একসঙ্গে সুন্দর, টেকসই ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জাতীয় সংসদের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রহমান তরফদার, তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি মন্টু ঘোষ, গার্মেন্টস টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ এবং গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশুসহ মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন