প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের জিরো পয়েন্ট ও গল্লামারী সড়কে নির্মাণ করা ফুটওভার ব্রিজটি বর্তমানে পথচারীহীন হয়ে পড়েছে। সোমবার তোলা ছবিতে দেখা যায়, ফুটওভার ব্রিজটির কোনও ব্যবহার নেই। এর নির্মাণের পর থেকে তাতে মানুষ চলাচল করছে না। রাত্রিবেলায় ব্রিজটি মাদকসেবীদের কবজায় চলে যায়।
স্থানীয় সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ)-এর দেওয়া তথ্যমতে, ব্রিজটি পরিকল্পনা করা হয়েছিল শিক্ষার্থী ও জনসাধারণের সুবিধার জন্য। ২০২৪ সালের জুন মাসে এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। ফুটওভার ব্রিজটি স্টিল প্লেট ও ১১টি পিলারের ওপর নির্মিত এবং এটি অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ২০১০ সাল থেকে প্রধান ফটকের সামনে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানাচ্ছিল। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান ও স্থানীয় সংসদ সদস্য উভয়েই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পৃথকভাবে ডিও লেটার দেন। এরপর খুলনা সড়ক ও জনপদ বিভাগ ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
তবে সোমबार (৬ জুলাই) সরেজমিনে এ ফুটওভার ব্রিজটিতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে খুবই কম সংখ্যক মানুষ ব্যবহার করছে। স্থানীয়দের মতে, ভর্তি পরীক্ষার মতো বিশেষ সময়ে ব্রিজটির প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হলেও বছরের অধিকাংশ সময় ব্রিজটি প্রায় অব্যবহৃত থাকে।
এছাড়া, ব্রিজের আশপাশের কিছু বাসিন্দা ও বহিরাগতরা রাতে মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ফুটওভার ব্রিজটি কেন ব্যবহার করা হচ্ছে না - এই প্রশ্নের জবাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের একজন ছাত্র বলেন, ‘রাস্তায় স্পিড ব্রেকার থাকায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই আমার কাছে ব্রিজ ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের বিপরীত পাশে চায়ের দোকানদারের বক্তব্য, ‘ব্রিজটি সারাবছর ধরেই অব্যবহৃত থাকে। রাত হলেই মাদকসেবীরা ব্রিজের ওপর মাদক সেবন করে। এছাড়া অশালীন কার্যক্রমও ঘটে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. কাজী সাইফুল ইসলাম জানান, ‘সড়কের দুই পাশে ব্যারিয়ার স্থাপন করলে পথচারীরা বাধ্য হয়ে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করবে, ফলে নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত হবে ও দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমবে। ভবিষ্যতে প্রধান ফটকের বিপরীতে আরো দোকানপাট গড়ে উঠলে এর ব্যবহার আরো বাড়বে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. এস এম মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের স্বার্থে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছে, তাই সবার উচিত এটি ব্যবহার করা।’ তিনি আরও বলেন, ‘সেখানে যদি কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ড ঘটে, সেগুলোর বিরুদ্ধে থানা ও পুলিশ প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন