প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কেনিয়ায় ১৯০ শিশু ও এক প্রাপ্তবয়স্ককে হত্যার দায়ে শুক্রবার সাজা ঘোষণা করা হবে ধর্মীয় গোষ্ঠীর নেতা পল ম্যাকেঞ্জির। তবে ভুক্তভোগীদের স্বজনরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন যে, তিনি কারাগারে গেলেও তার অনুসারীদের মধ্যে প্রাণঘাতী মতবাদ ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হতে পারেন।
নিহতদের মধ্যে স্টিফেন মুইতির ছয় সন্তান রয়েছে। ২০২২ সালে তার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে শাকাহোলা বনে গিয়েছিলেন। সরকারি আইনজীবীদের অভিযোগ, ম্যাকেঞ্জি অনুসারীদের নিজেদের ও সন্তানদের না খেয়ে মৃত্যুর নির্দেশ দিয়েছিলেন, পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার আগে স্বর্গে যাওয়ার আশায়। এটি ধর্মীয় গোষ্ঠীকে ঘিরে সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাগুলোর একটি।
মুইতি চান, ম্যাকেঞ্জি ও তার সহযোগীদের কারাদণ্ড হলে তাদের আলাদা নির্জন কক্ষে রাখা হোক। এতে তারা অন্য বন্দিদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারবেন না। অভিযুক্তদের মধ্যে মুইতির স্ত্রীও রয়েছেন। ৪৮ বছর বয়সী মুইতি এ সপ্তাহে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এসব কথা বলেন। উপকূলীয় শহর মালিন্দিতে ছেলে স্যামুয়েলের কবর দেখতে গিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
মুইতির সন্তানদের নিয়ে বনে যাওয়ার সময় স্যামুয়েলের বয়স ছিল প্রায় সাত বছর। তার ছয় সন্তানের মধ্যে শুধু স্যামুয়েলের দেহাবশেষ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। অন্যদের মরদেহ এতটাই পচে গিয়েছিল যে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। শাকাহোলা বন থেকে উদ্ধার হওয়া ৪০০টির বেশি মরদেহের মধ্যে মাত্র ২৬ জনের পরিচয় শনাক্ত করতে পেরেছেন কর্মকর্তারা।
গত মাসে ম্যাকেঞ্জি ও তার সঙ্গে অভিযুক্ত ২৮ জনকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তাদের মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে। তবে কেনিয়ায় কয়েক দশক ধরে কারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি। মুইতির স্ত্রীসহ বেশির ভাগ অভিযুক্ত তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ম্যাকেঞ্জিও দাবি করেছেন, তিনি কাউকে জোর করে না খেয়ে থাকতে বাধ্য করেননি। তবে মুইতি তার এই দাবি মানতে নারাজ।
তিনি বলেন, ‘ধরে নিলাম, তার কথায় প্রভাবিত হয়ে প্রাপ্তবয়স্করা স্বেচ্ছায় উপবাস করতে রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু শিশুদের কী অপরাধ ছিল? ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনেও দেখা গেছে, স্যামুয়েলের মৃত্যু হয়েছে শ্বাসরোধ করে। সেটাও কি তার নিজের ইচ্ছায় হয়েছিল?’ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ম্যাকেঞ্জি গ্রেপ্তার হওয়ার পরও তার অনুসারীরা তার মতবাদ প্রচার চালিয়ে গেছেন। গত বছর শাকাহোলার কাছের একটি গ্রাম থেকে আরো কয়েক ডজন মরদেহ উদ্ধার করে কর্তৃপক্ষ। এসব মৃত্যুর সঙ্গে ম্যাকেঞ্জির ধর্মীয় গোষ্ঠীর যোগসূত্র রয়েছে বলে কর্মকর্তারা ধারণা করছেন।
সন্তানদের শেষবার দেখার পর চার বছর পেরিয়ে গেছে। তবে এখনো তাদের হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি মুইতি। তিনি বলেন, ‘কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে যখনই কোনো শিশুকে দেখি, আমি চমকে উঠি। কখনো কোনো শিশুকে আমার নিজের সন্তানের মতো দেখতে লাগে। তখন আমি ভীষণ ধাক্কা খাই।’ মালিন্দির একটি কবরস্থানে কাঠের ক্রুশের নিচে কবর দেওয়া হয়েছে স্যামুয়েলকে। সেখানে সন্তানদের কয়েকটি ছবি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মুইতি। সঙ্গে এনেছিলেন তাদের আগের স্কুলের কিছু পোশাক। সন্তানদের কবর দেওয়ার সময় এসব পোশাকও সঙ্গে দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন তিনি। মুইতি বলেন, ‘আমার কাছে এখন শুধু এই স্মৃতিগুলোই রয়ে গেছে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন