প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গুগলে ‘চোরের দলের ফুটবল খেলা কবে’ লিখে সার্চ করলে যে তথ্য দেখাচ্ছে, তা বর্তমানে রীতিমতো ভাইরাল হয়ে উঠেছে। ব্যবহারকারীরা যখনই গুগলে এই লেখাটি সার্চ করছেন, তখনই সামনে চলে আসছে আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সেমিফাইনাল ম্যাচের তথ্য। এই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়ে গেছে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি গুগলের কোনো আনুষ্ঠানিক নামকরণ নয়। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপুল সংখ্যক ট্রোল পোস্ট, ভিডিও, মিম ও ক্যাপশনে আর্জেন্টিনা দলের প্রতি যেভাবে ‘চোরের দল’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, তার ফলস্বরূপ গুগলের সার্চ অ্যালগরিদম কিওয়ার্ডটির সঙ্গে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের সম্পর্ক খুঁজে পাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সার্চ ফলাফলগুলো প্রদর্শন করছে।
এই ট্রোলের অন্তরালে রয়েছে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত একটি ম্যাচ, যা ১৯৮৬ সালের ২২ জুন মেক্সিকো সিটির অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দেয়।
বিশ্লেষকদের একমত, ২২ জুন ১৯৮৬ তারিখে অনুষ্ঠিত মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার সেই ম্যাচটি শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ ছিল না, বরং এটি রাজনৈতিক ও আবেগীয় এক আবহে জড়িত ছিল।
ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার মাত্র চার বছর পূর্বে (১৯৮২ সালে) ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের (ইংল্যান্ড) মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। এই যুদ্ধ ফকল্যান্ড যুদ্ধ (Falklands War) নামে পরিচিত এবং এতে আর্জেন্টিনা পরাজয় বরণ করেছিল। ফলস্বরূপ, ফুটবল মাঠে দুই দলের মুখোমুখি হবার বিষয়টি দুই দেশের মানুষের কাছে এক ভিন্ন মাত্রার মর্যাদার লড়াই হিসেবে দেখা হয়েছিল।
ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্যভাবে শেষ হয়, কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের মাত্র ৪ মিনিটের ব্যবধানে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক ডিয়েগো ম্যারাডোনা এমন দুটি গোল করেন, যা ফুটবল ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। ম্যাচের ৫১তম মিনিটে ইংল্যান্ডের পেনাল্টি বক্সে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ভুলবশত নিজেদের বক্সের দিকে ভাসিয়ে দেন ইংলিশ ডিফেন্ডার স্টিভ হজ।
ম্যারাডোনা এবং ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক পিটার শিলটন দুজনেই বলের দিকে লাফিয়ে ওঠেন এবং শিলটন ম্যারাডোনার চেয়ে অনেক বেশি উচ্চতায় থাকা সত্ত্বেও ম্যারাডোনা চালাকি করে তার বাম হাত দিয়ে বলটি শিলটনের মাথার ওপর দিয়ে জালে ঠেলে দেন। তিউনিসিয়ান রেফারি আলি বিন নাসের ফাউলটি খেয়াল না করায় এটিকে বৈধ গোল হিসেবে ঘোষণা করেন।
ম্যাচের পর ম্যারাডোনা সেই গোল নিয়ে রসিকতা করে বলেছিলেন, ‘কিছুটা ম্যারাডোনার মাথা দিয়ে আর কিছুটা ঈশ্বরের হাত দিয়ে গোল করা হয়েছিল।’ সেই বিতর্কিত গোলের কারণে আজও প্রতিপক্ষ সমর্থকদের একটি অংশ আর্জেন্টিনাকে বিভিন্ন নামে ব্যঙ্গ করে উল্লেখ করে।
বিশ্বকাপ ২০২৬-এ আবারও সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ফলে ৪০ বছর আগে ঐতিহাসিক সেই ম্যাচ ও বিতর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য ট্রোল, মিম ও পোস্ট ভাইরাল হওয়ার কারণে ‘চোরের দলের খেলা কবে’ সার্চটিও দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
তবে এটি মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে, ‘চোরের দল’ কোনো সরকারি বা ফিফার স্বীকৃত নাম নয়। এটা শুধুমাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহৃত একটি ব্যঙ্গাত্মক শব্দ, যা ভাইরাল কনটেন্টের প্রভাবে গুগলের সার্চ ফলাফলেও উঠে এসেছে।
মোটামুটি বিশ্বকাপে খেলা অন্যান্য দেশের ফুটবল দলের সমর্থকদের জন্য এটি একটি মজার ট্রল বলা যেতে পারে। তাই এটি কোনো ইতিহাস বা ব্যক্তিগত বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন