প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নিজেকে ব্রাজিলের নেতা হিসেবে ঘোষণা করে ফ্লাভিও বলসোনারো নিজ দেশে ব্যাপক উপহাসের শিকার হয়েছেন। তাঁর এই ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের পাশাপাশি দেশটির সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে তিনি প্রথমে নিজেকে ব্রাজিলের ‘প্রকৃত প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে দাবি করেন। পরে তিনি বক্তব্য সংশোধন করে নিজেকে দেশের ‘নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর এই ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
ব্রাজিলের পপ তারকা আনিত্তা নিজেকে ‘সেলুলাইটমুক্ত’ ঘোষণা করে ফ্লাভিওর বক্তব্যের প্রতি বিদ্রূপ করেন। এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী নিজেকে ‘টুইটারের প্রকৃত প্রেসিডেন্ট’ বলে দাবি করেন। আরেকজন নিজেকে লটারিতে বিজয়ী ঘোষণা করে ফ্লাভিওর বক্তব্যের সঙ্গে তুলনা টানেন।
৪৫ বছর বয়সী ফ্লাভিও, যিনি জাইর বলসোনারোর জ্যেষ্ঠ ছেলে, নির্বাচনের প্রথম দফায় এগিয়ে থাকলেও চূড়ান্ত পর্বে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে পরাজিত হন। নির্বাচনের পর চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে তাঁর পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যেই আর্জেন্টিনা ও ইকুয়েডর হয়ে গোপনে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর ফ্লাভিও তাঁর ভাই এদুয়ার্দো বলসোনারোর সঙ্গে ব্রাজিলের পতাকা হাতে একটি ছবি প্রকাশ করেন। এর আগে সমর্থকদের উদ্দেশে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি ব্রাজিলের রাষ্ট্রীয় প্রতীকের পুরোনো সংস্করণ ব্যবহার করেছিলেন। তাঁর এক সহযোগী দাবি করেন, চিঠিটি তৈরির সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে এ ভুল হয়েছে।
ফ্লাভিওর বক্তব্য নিয়ে ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়েছে। দেশটির পত্রিকা ও গ্লোবো তাঁকে ‘উন্মাদ আশ্রমের নেপোলিয়ন’-এর সঙ্গে তুলনা করেছে। ফোলহা দে সাও পাওলো তাঁর বক্তব্যকে ‘হাস্যকর’ বলে উল্লেখ করেছে।
এদিকে সাও পাওলোর গভর্নর তারসিসিও দে ফ্রেইতাস ফ্লাভিওর ঘোষণার সঙ্গে নিজের দূরত্ব স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।
ফ্লাভিওর নির্বাচনী প্রচারের সমন্বয়ক রোজেরিও মারিনোও নির্বাচনে কারচুপির কোনো প্রমাণ নেই বলে জানিয়েছেন। দেশটির নির্বাচনী আদালতের প্রধান কাসিও নুনেস মার্কেসও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক জেরালদো মন্টেইরোর মতে, ফ্লাভিওর এ ঘোষণা রক্ষণশীল রাজনৈতিক প্রভাব ধরে রাখার একটি পরিকল্পিত কৌশল হতে পারে। ব্রাজিলের কংগ্রেসে ডানপন্থীদের শক্ত অবস্থান রয়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে লিবারেল পার্টি দেশটির বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে ফ্লাভিও দেশের রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন মন্টেইরো। তাঁর মতে, ফ্লাভিওর চিঠি রক্ষণশীল শিবিরে এমন একটি বিভাজন তৈরি করতে পারে, যেখানে একদিকে থাকবে তাঁর প্রতি চরম অনুগতরা, অন্যদিকে থাকবে যারা আরেকটি অভ্যুত্থানচেষ্টায় যুক্ত হতে আগ্রহী নয়।
২০২২ সালের নির্বাচনে লুলার কাছে পরাজিত হওয়ার পর অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে জাইর বলসোনারোকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি গৃহবন্দি রয়েছেন। সম্প্রতি লিবারেল পার্টির নেতা ভালদেমার কস্তা নেতো তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। পরে তিনি জানান, ফ্লাভিওর চিঠি প্রকাশের বিষয়ে দলের কেউ অনুমোদন দেননি। তাঁর মতে, দলকে এখন সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
ফ্লাভিওর এই ঘোষণা ব্রাজিলের রক্ষণশীল রাজনীতিতে তাঁর অবস্থান ধরে রাখার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও নির্বাচনী প্রচারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দূরত্ব দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। তথ্যসূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন