প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ডুবোচরে প্রায় ৩০০ যাত্রীসহ ফেরি আটকে ছিল ৯ ঘণ্টা ফেরিতে আটকে থাকা যাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য ও সুপেয় পানি পৌঁছে দেন স্থানীয় বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা।
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ চ্যানেলের ডুবোচরে আটকে থাকা ‘ফেরি কপোতাক্ষ’ ভোর ৪টার দিকে সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়ার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে, যা প্রায় ৯ ঘণ্টা পর ফেরিঘাটে পৌঁছায়। অতিরিক্ত জোয়ারের কারণে ফেরিতে থাকা বাস নামাতে আরো প্রায় চার ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।
দীর্ঘ এ সময় অপেক্ষা ও নির্ঘুম রাত কাটানোর ফলে ফেরিতে প্রায় ৩০০ যাত্রী চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন হন।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে সন্দ্বীপের গুপ্তচরা থেকে সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া যাওয়ার পথে ফেরিটি ডুবোচরে আটকে পড়ে, যা দিবাগত রাত ২টা ৪৫ মিনিটে পুনরায় যাত্রা শুরু করে। রাত সাড়ে ৪টার দিকে বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাটে পৌঁছালেও অতিরিক্ত জোয়ারের কারণে বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি ফেরি থেকে নামানো সম্ভব হয়নি, চালকরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এসব যানবাহনে শতাধিক যাত্রী ছিলেন।
এ সময় ফেরীতে প্রায় ৩০০ জন যাত্রীসহ পণ্যবাহী ট্রাক ও ব্যক্তিগত কিছু গাড়ি ছিল।
যাত্রীদের অভিযোগ, ফেরি থেকে যানবাহন ও যাত্রী ওঠানামার সুবিধার্থে হাই ওয়াটার ঘাটের অবকাঠামো নির্মাণ করা হলেও তা এখনও চালু হয়নি। ফলে জোয়ারের সময় ফেরি ঘাটে পৌঁছালেও যাত্রী ও যানবাহন নামানো সম্ভব হচ্ছে না। পরে আজ বৃহস্পতিবার ভোরে ফেরি বাঁশবাড়িয়া ঘাটে পৌঁছালে কিছু যাত্রী লাল বোটে নামেন।
গতকাল সন্ধ্যায় ফেরিটি ডুবোচরে আটকে পড়ার পর যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। এ সময় বিশেষ নিরাপত্তার জন্য সীতাকুণ্ড থানার এসআই নজরুলের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বাঁশবাড়িয়া ঘাটে উপস্থিত ছিল।
এদিকে ফেরিতে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও সুপেয় পানির সংকটের খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত ৯টার পর যাত্রীদের জন্য শুকনো খাবার পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। গভীর রাতে চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনের সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশার পৃষ্ঠপোষকতায় বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রায় ৫০০ মানুষের জন্য রান্না করা খাবার ও সুপেয় পানি ফেরিতে নিয়ে যান।
এর আগে সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন ফেরিতে গিয়ে আটকে থাকা যাত্রীদের খোঁজখবর নেন।
এদিকে ফেরিতে থাকা স্বজনদের নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রাত কাটান তাদের পরিবারের সদস্যরা। সন্দ্বীপের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিদারুল আলম বলেন, ‘আমার মেয়েকে ফেরিতে পাঠিয়ে সারা রাত উৎকণ্ঠার মধ্যে কাটিয়েছি।’
বিআইডাব্লিউটিএ-এর উপপরিচালক (পোর্ট অফিসার) নয়ন শীল জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ভাটা শুরু হলে যাত্রী ও যানবাহনগুলো ফেরি থেকে নামতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, ‘পর্যাপ্ত ড্রেজিংয়ের বিষয়ে আমরা কথা বলব। পল্টুনের ব্যবস্থা করা হলে হাই ওয়াটার ঘাট চালু করা সম্ভব হবে। তখন অতিরিক্ত জোয়ারের সময়ও ফেরি থেকে যাত্রী ও যানবাহন নামাতে এ ধরনের সমস্যা হবে না।’
এর আগে ২০২৫ সালের ১৪ অক্টোবর একই স্থানে নাব্যতার কারণে ফেরিটি আটকে গিয়েছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন