প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে ইসরায়েল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এই চুক্তির আওতায় মার্কিন প্রযুক্তি ব্যবহার করে সৌদি আরবে পারমাণবিক রিয়্যাক্টর নির্মাণ এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকির সৃষ্টি করতে পারে। ইসরায়েলের বিভিন্ন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা বলছেন, যদিও চুক্তিটি মূলত একটি বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি তৈরির জন্য, তবে এটি মধ্যপ্রাচ্যে একটি ভয়াবহ পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার সূচনা করতে পারে। চুক্তিটি কার্যকর হতে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে, তবে প্রকাশের পর থেকেই জেরুজালেমে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার সরকারের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এখনো কোনো মন্তব্য করেননি। তবে এই নীরবতার মধ্যেই বিরোধী নেতারা নেতানিয়াহু সরকারের তীব্র সমালোচনা শুরু করেছেন। আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে চ্যালেঞ্জ জানাতে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এই পদক্ষেপকে মারাত্মক কৌশলগত ব্যর্থতা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, সৌদি আরবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দেওয়া হলে তা পুরো অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণহীন পারমাণবিক দৌড় শুরু করবে। সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী অ্যাভিগডোর লিবারম্যানও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, এই বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্রে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন। তিনি ইসরায়েল সরকারকে মার্কিন কংগ্রেসে লবিং চালানোর আহ্বান জানান। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলকে একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ হিসেবে পরিচিত হলেও তারা আনুষ্ঠানিকভাবে তা স্বীকার বা অস্বীকার করেনি। রিয়াদের এই পারমাণবিক ক্ষমতা অর্জন ইসরায়েলের সামরিক সুবিধার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই চুক্তিটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ এবং জো বাইডেন প্রশাসন উভয়ের সময় আলোচনা হয়েছে। যদিও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার আপত্তির কারণে এতদিন এটি বাস্তবায়ন হয়নি। সমালোচকরা মনে করছেন, এই চুক্তি সৌদি আরবকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির একটি সহজ পথ তৈরি করে দিতে পারে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক সমীকরণকে চিরতরে বদলে দেবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন