প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ভারত সরকারের ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন। তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনসহ একাধিক নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সতর্ক করে রাহুল বলেছেন, "নিজেদের যতই শক্তিশালী মনে করুন না কেন, তারা দেশের সংবিধানের ঊর্ধ্বে নন।"
রোববার (১ নভেম্বর) দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোটের আয়োজিত এক সমাবেশে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরানোর পর তাদের পরবর্তী লক্ষ্য হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের সহযোগিতা ছাড়া নরেন্দ্র মোদির প্রধানমন্ত্রী হওয়া এবং অমিত শাহের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়া সম্ভব হতো না। তিনি বলেন, "নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় অনিয়মের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।"
সমাবেশে ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ বিশেষ গুরুত্ব পায়। রাহুলের দাবি, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে প্রায় ১৫ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি একে সাধারণ কোনো অনিয়ম হিসেবে দেখতে নারাজ। তার ভাষায়, "এ ধরনের কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল এবং অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ।"
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পাশাপাশি মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটকের নির্বাচনেও পরিকল্পিতভাবে ভোট কারচুপি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন রাহুল। এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সাম্প্রতিক বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে রাহুল বলেন, "নরেন্দ্র মোদি কোথাও যাচ্ছেন না" বলে অমিত শাহ যে দাবি করেছেন, তার জবাব দেবে দেশের জনগণ। তিনি উল্লেখ করেন, "প্রথমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরিয়ে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। এরপর নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি আসবে।"
নির্বাচনি অনিয়মের অভিযোগের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক বৈষম্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়েও কথা বলেন কংগ্রেস নেতা। শিল্পপতি গৌতম আদানির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "দেশের সবকিছু গুটিকয়েক শিল্পপতির হাতে চলে যাওয়া উচিত নয়।" কৃষক যেন তার পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্য পান এবং শিক্ষার্থীরা যেন নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী সুযোগ পান, এমন একটি ভারত গড়ার পক্ষে তিনি।
রাহুল গান্ধী বলেন, "শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা যদি নির্দিষ্ট কয়েকজন শিল্পপতির নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন হবে।" দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
সমাবেশের শেষ পর্যায়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে রাহুল বলেন, সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বরই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিরোধী জোট ঘৃণা ও সহিংসতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তবে দেশের সংবিধান রক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।
রামলীলা ময়দানের এ সমাবেশে বিরোধী জোটের অন্যান্য নেতারাও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেন। সমাবেশকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন