প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকার রাজা মিয়া সওদাগর জামে মসজিদের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ইমামের ঝুলন্ত মরদেহ। মরদেহটি উদ্ধার হয় গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. আমির হোসেন (৪৩)। তিনি ১৩ বছর ধরে ওই মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায়। তিনি মসজিদের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে থাকতেন।
মৃত্যুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুকে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি নিজ কক্ষে লিখে গেছেন একটি চিরকুটও।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের সূত্রে জানা যায়, মো. আমির হোসেন গত মঙ্গলবার বিকেলে আসরের নামাজে ইমামতি করেন। কিন্তু মাগরিবের নামাজের সময় মুসল্লিরা দেখতে পান যে ইমাম নেই এবং মসজিদে তালা লাগানো। পরে রাতের এশার নামাজের সময়ও মুসল্লিরা মসজিদ তালাবদ্ধ দেখতে পান। এতে তাঁদের সন্দেহ হয় এবং মসজিদের দোতলার জানালা দিয়ে উঁকি দিলে তাঁরা দেখতে পান, মসজিদের দোতলায় সিলিং ফ্যানের হুকের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ইমামের মরদেহ রয়েছে। পরবর্তীতে থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইফতেখার আহমেদ বলেন, মুসল্লিরা মাগরিবের সময়ে মসজিদ তালাবদ্ধ দেখতে পেয়ে ভেবেছিলেন ইমাম হয়তো বাইরে কোনো কাজে আটকে পড়েছেন। পরে দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর মানুষগুলোর সন্দেহ হয়। তখন উঁকি দিয়ে মরদেহটি দেখতে পান। ফ্যানের হুকের সঙ্গে সবুজ রঙের একটি কাপড় গলায় প্যাঁচানো অবস্থায় ঝুলন্ত মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। নিচে একটি মইও পড়ে ছিল এবং ইমামের কক্ষে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে, যেখানে পারিবারিক কলহের বিষয়ে কিছু কথা লেখা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য অনুযায়ী, মৃত্যুর আগে ইমাম আমির হোসেন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, ‘যার জীবনে দুঃখ ছাড়া কিছু নাই, তাকে দেখায় কষ্টের ভয়’।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, পুলিশ খবর পেয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। উদ্ধার হওয়া চিরকুটটি তাঁর লেখা কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে যে পারিবারিক কলহ থেকেই ওই ইমাম আত্মহত্যা করতে পারেন। এই বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন