প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দীর্ঘ ২২ বছর পরে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভায় গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলার রায় আদালত ঘোষণা করেছেন। রায়ে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছসহ নয়জনকে খালাস প্রদান করা হয়েছে। একই মামলায় সৈয়দ নাঈম আহমেদ ওরফে নিমু নামের একজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার বহুল আলোচিত এই রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবুল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, রায় ঘোষণার সময় পলাতক আসামি ছাড়া অন্য সবাই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালতে হাজির হন আরিফুল হক চৌধুরী, লুৎফুজ্জামান বাবর ও জি কে গউছ কড়া নিরাপত্তায়। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণের পর আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, খালাসপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি। রায়ের পর খালাসপ্রাপ্ত নেতারা বলেছেন, 'মামলাটি ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।' একই সঙ্গে অন্যান্য আলোচিত রাজনৈতিক মামলাগুলোতেও তারা ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দিন জানিয়েছেন, মামলায় মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করা হয়েছিল। এর মধ্যে অন্য মামলায় আগেই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে মারা যাওয়ায় মাওলানা শেখ আবদুস সালামসহ তিনজনকে আসামির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। বাকি ১০ জনের মধ্যে নয়জনকে খালাস এবং একজনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে।
দণ্ডিত সৈয়দ নাঈম আহমেদ ওরফে নিমুর বিরুদ্ধে তিনটি ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে ৩০২ ধারায় মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ডও দিয়েছেন। নিমুর বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর পশ্চিমপাড়া লম্বাহাটি গ্রামে।
মামলায় খালাস পাওয়া অন্য আসামিরা হলেন: মুহিব উল্লা ওরফে মফিজুর রহমান, মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দাল, আবদুল মাজেদ বাট, নাজিউর রহমান ওরফে নাজমুল হক নাজু এবং মাওলানা তাজ উদ্দিন। তাদের মধ্যে তাজ উদ্দিন শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে একটি রাজনৈতিক সমাবেশের সময় গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিচ্ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। হামলায় স্থানীয় যুবলীগের এক কর্মী নিহত এবং অন্তত ২৯ জন আহত হন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হামলায় আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান। ঘটনার পর দিরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর লুৎফুজ্জামান বাবর, আরিফুল হক চৌধুরী, জি কে গউছসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় অভিযোগপত্রে থাকা ১২৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ৬৭ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। প্রায় দুই দশক ধরে চলা বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আজ এই রায় ঘোষণা করা হলো।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন