প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইউরোপের যুদ্ধক্ষেত্রে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলবিদরা গুরুত্বের সঙ্গে চিন্তাভাবনা করছেন বলে দাবি করেছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ দূত আন্দ্রেই বেলোসভ বলেছেন, ইউরোপে মোতায়েন থাকা মার্কিন পরমাণু অস্ত্র এবং ওয়াশিংটনের নতুন পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির দিকেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মূল মনোযোগ দেওয়া উচিত।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই বিশেষ দূত রুশ সংবাদমাধ্যম আরটিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্য করেন।
বেলোসভের দাবি, রাশিয়ার ‘নন-স্ট্র্যাটেজিক’ বা অ-কৌশলগত পরমাণু অস্ত্র নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা শুরুর জন্য যুক্তরাষ্ট্র যে উদ্যোগ নিচ্ছে, তা মূলত ইউরোপে মোতায়েন মার্কিন পরমাণু অস্ত্রের ঝুঁকি থেকে আন্তর্জাতিক মনোযোগ সরিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন বহুপক্ষীয় নিরস্ত্রীকরণ ফোরামে রাশিয়ার অ-কৌশলগত পরমাণু অস্ত্র নিয়ে আলোচনা শুরুর ওপর জোর দিচ্ছে। অথচ এসব অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের জন্য সরাসরি হুমকি নয় বলে দাবি করেন তিনি।
বেলোসভ বলেন, “মার্কিন সামরিক কৌশলবিদরা ইউরোপীয় সামরিক অভিযানের মঞ্চে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন।”
রুশ কূটনীতিকের মতে, ইউরোপে মোতায়েন থাকা মার্কিন পরমাণু অস্ত্র, ওয়াশিংটনের পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাই মূল উদ্বেগের বিষয়।
তবে বেলোসভের এই বক্তব্যের পক্ষে তিনি কোনও নির্দিষ্ট মার্কিন সামরিক পরিকল্পনা, নথি বা গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশ করেননি। ফলে এটি রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
রাশিয়ার অ-কৌশলগত পরমাণু অস্ত্র নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্বেগেরও সমালোচনা করেছেন বেলোসভ।
তিনি বলেন, রাশিয়ার এসব অস্ত্র নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে যদি রুশ পরমাণু অস্ত্রের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়, স্বচ্ছতা বাড়ানোর জন্য কঠোর নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হয় অথবা এসব অস্ত্র কমিয়ে আনা হয়—তাহলে উল্টো যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে।
বিশেষ করে রাশিয়ার অ-কৌশলগত পরমাণু অস্ত্রের সম্পূর্ণ বিলোপ হলে পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বেলোসভের ভাষ্য, আলোচনার মাধ্যমে রাশিয়ার পরমাণু সক্ষমতা সম্পর্কে আরও বেশি তথ্য প্রকাশিত হলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের কাছে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে বেশি সুবিধা তৈরি হতে পারে। এ কারণে মস্কো এ ধরনের উদ্যোগকে নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখছে।
ইউরোপকে সতর্ক করল মস্কো
ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে বেলোসভ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্র দেশগুলোর ভূখণ্ডকে যেভাবে ব্যবহার করছে, ইউরোপীয় দেশগুলোর উচিত সেই নীতির প্রকৃত ঝুঁকি উপলব্ধি করা।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতিকে ‘বিশুদ্ধ বাস্তববাদী’ বা ব্যবহারিক দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে উল্লেখ করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন নিজের ভূখণ্ডের বাইরে মিত্রদের ভূখণ্ডকে সামরিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ব্যবহার করছে, যার ফলে সংঘাতের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় দেশগুলো সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা এবং পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের মধ্যেই মস্কোর পক্ষ থেকে সর্বশেষ এই সতর্কবার্তা এলো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, কৌশলগত স্থিতিশীলতা এবং ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর সেই উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ফলে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগও নতুন করে সামনে আসছে। সূত্র: তাস
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন