প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এ কাজ করার অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করে হবিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা কিবরিয়া বলেছেন, আমি বিশ্বের ৩৫টি দেশে কাজ করেছি। আমরা মোট ঋণের ৬ শতাংশ খেলাপি হলে অনেকটা আঘাত পেতাম। কিন্তু বাংলাদেশে খেলাপির পরিমাণ ৬১ শতাংশ। ফলে ব্যাংকিং খাত সম্পূর্ণরূপে বেহাল হয়ে পড়েছে।
তিনি যোগ করেন, ব্যাংকের বিষয়ে যদি কড়া পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তাহলে অর্থনৈতিক অগ্রগতি আশা করা ভুল। আমি আশা করি, অর্থমন্ত্রী এই বিষয়গুলো নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। কারণ আমাদের ব্যাংকিং দক্ষতা বাড়াতে হবে। তিনি এই সময় বিরোধী দলের সদস্যদের টেবিলে চাপড়াতে দেখা যায়।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের বিষয়ে আলোচনা করা অবস্থায় এসব কথা বলেন রেজা কিবরিয়া। এ সময় সংসদের সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরের দক্ষতা খুবই কম। কারণ, আমরা জনগণ থেকে টাকা নিয়ে ৫ শতাংশ সুদে, অথচ সৎ ব্যবসায়ীদের ঋণ নিতে গেলে ১৪ বা ১৬ শতাংশ বলে থাকি। এজন্য আমাদের ব্যাংকিং খাত কার্যকর না। ব্যাংকিং সেক্টর যদি দক্ষ হতে পারত, তবে যে রেটে লোক টাকা নিয়ে আসে, সেই কাছাকাছি রেটে, যেন ৪ বা ৬ শতাংশ সুদ থাকে। সৎ ব্যবসায়ীরা ঋণ পাচ্ছেন না। আমাদের ডিফল্ট সিস্টেমে আমরা পরিবর্তন এনেছি। আগে ৯০ দিন সুদ পরিশোধ না করলে ডিফল্ট বলে বিবেচিত হতো। কিন্তু এখন আমরা ১ বছর সুদ পরিশোধ না করলে ডিফল্ট বলি।
অর্থনীতি খাতে ৪৫ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন রেজা কিবরিয়া মুদ্রাস্ফীতি সম্পর্কে বলেন, মুদ্রাস্ফীতি কম রাখাটা শ্রেয়। প্রতিবছর আমাদের এক্সচেঞ্জ রেট কমছে। এর কারণ হচ্ছে—আমাদের ট্রেডিং পার্টনারের মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে আমাদের মুদ্রাস্ফীতির পার্থক্যের উপর সবকিছু নির্ভর করে। যদি আমাদের মুদ্রাস্ফীতি ১০ এবং আমাদের ট্রেডিং পার্টনারের মুদ্রাস্ফীতি ৩ হয়, তাহলে আমাদের এক্সচেঞ্জ রেট সাত শতাংশ কমে যাবে।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতির চলমান মন্থরতার মধ্যে অর্থমন্ত্রী অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে বাজেট প্রণয়ন করেছেন। বিশ্ব অর্থনীতির অগ্রগতির সম্ভাবনা দুর্বল হয়ে পড়ছে। প্রতি ছয় মাস অন্তর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমানো হচ্ছে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি মাথায় রেখেই এই বাজেট প্রস্তুত করা হয়েছে যা বিস্ময়ের কিছু নয়।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখার জন্য সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন বিএনপির এই এমপি। ঋণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, দেশের মোট ঋণের পরিমাণ এখনও নিয়ন্ত্রণযোগ্য এবং এটি জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ। ঋণ পরিশোধে প্রায় ২০ শতাংশ ব্যয় হয়। তবে তিনি বাণিজ্যিক বৈদেশিক ঋণের উপর নির্ভরতা বাড়ানোর বিরুদ্ধে সতর্ক করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন