প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা কারখানায় আগুনে দগ্ধ হওয়ার পর অন্তত ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এদের মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১০ জনের মৃত্যুর খবর জানা গেছে। পাশের নাটোর জেলার নলডাঙ্গা উপজেলার আরও তিন বাসিন্দা নিহত হয়েছেন।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরের এই ঘটনায় ওই কারখানায় নিহতদের মধ্যে নাটোরের নলডাঙ্গার খাজুরা এলাকার তিন বাসিন্দারা থাকার তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান।
রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের বরাতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় রাত দেড়টায় জানায়, ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলে ১৬ জন মারা যাওয়ার তথ্য দিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা। আগুনে পুড়ে যাওয়ায় মৃতদেহ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এর আগে রাতে নিহতদের স্বজনদের বরাতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, রোববার দুপুরের দিকে ওই সোফা কারখানায় আগুন লেগেছিল, এতে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাংলাদেশি ছাড়াও অন্য দেশের নাগরিক আছে কিনা সেটা অবশ্য স্বজনরা পরিস্কার করে বলতে পারেননি।
সৌদি দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বীর বরাতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, সৌদির কারখানায় মৃতের প্রকৃত সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রকৃত সংখ্যা পাওয়া গেলে তা জানিয়ে দেওয়া হবে।
আত্রাই উপজেলা ইউএনও মো. মনিরুজ্জামান বলেন, রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাতজনের মৃত্যুর বিষয়টি জানা ছিল। পরে ১০ জনের মৃত্যুর খবর পান। এখনো উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। তবে এই মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি জানা গেছে। ইউএনও খোঁজ নিতে বের হয়েছেন।
আত্রাইয়ের ইউএনও জানান, নিহতদের মধ্যে উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামের চারজন, বিষা গ্রামের দুজন এবং পারকাসুন্দা গ্রামের একজনের মৃত্যুর খবর প্রথমে পাওয়া যায়। পরে আরও মৃত্যুর খবর আসে।
আত্রাই উপজেলার নিহতরা হলেন- উপজেলার বিশা ইউনিয়নের বিশা গ্রামের সাগর (৩১) ও একই গ্রামের মজিদুল (৩৪), উদনপৈ গ্রামের ফরিদ শেখ (৩২), ডুবাই গ্রামের সুমন (৩৫) ও হাসিবুল হাসান (২৭), কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালি গ্রামের মহুন প্রামাণিক (৪২), সুমন প্রামাণিক, রুবেল হোসেন (৩০), কলি প্রামাণিক (৩৫) এবং পারকাসুন্দা গ্রামের আবদুল জলিল (৩৮)।
অপরদিকে ওই সোফা কারখানায় লাগা আগুনে নিহতদের মধ্যে নাটোরের নলডাঙ্গার খাজুরা এলাকার তিন বাসিন্দার থাকার তথ্য দিয়েছেন খাজুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসেন। নিহতদের স্বজনদের বরাতে তিনি এ খবর জানিয়েছেন।
নিহতরা হলেন- নলডাঙ্গার খাজুরা শ্রীপুরপাড়া এলাকার গোলাম রাব্বানীর ছেলে সাব্বির হোসেন সোহাগ, দিঘীর পাড় এলাকার জাকের হোসেনের ছেলে শামীম হোসেন এবং মহিষডাঙ্গা এলাকার আসলাম আলীর ছেলে রবিউল আওয়াল হৃদয়।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের শোক
সৌদি আরবে সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ৭ জন প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
এক শোক বার্তায় মন্ত্রী বলেছেন, সৌদি আরবে কর্মরত এই প্রবাসীদের এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদান অপরিসীম। তাদের এই আকস্মিক প্রয়াণে তিনি গভীর শোকাহত। নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি তিনি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরও জানান, সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে দুর্ঘটনাস্থল ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। নিহত প্রবাসীদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরকারি সহায়তা, ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন