০৮:৩২ পি.এম
ফেনীতে শাশুড়িকে মৃত হিসেবে দেখিয়ে ভুয়া ওয়ারিশ সনদ তৈরি করে স্বামীর জমি বিক্রির চেষ্টা করার অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে সাজেদা আক্তার নামের এক পুত্রবধূর বিরুদ্ধে। গত সোমবার, ১৭ আগস্ট তারিখে, ফেনী সদর সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে দলিল রেজিস্ট্রি করার সময় সাব রেজিস্ট্রারের সন্দেহ এবং তাৎক্ষণিক জিজ্ঞাসাবাদে সাজেদার সেই অপচেষ্টা সফল হয়নি।
পরে, বুধবার সকালে, হাজেরা খাতুন নামের শাশুড়ি ফেনী সদর সাবরেজিস্ট্রার অফিসে এসে পুরো ঘটনাটি বিস্তারিত জানান। সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে যে, ২০২৩ সালের ১৯ আগস্ট সোনাগাজী উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের নদোনা গ্রামের মো. জহিরুল হক মারা যান। তাঁর মৃত্যুর সময় তিনি মা, স্ত্রী, এক পুত্র এবং এক কন্যা রেখে যান। কিন্তু চলতি বছরের ২০ জুলাই, সাজেদা আক্তার বগাদানা ইউনিয়ন থেকে একটি ওয়ারিশ সনদ গ্রহণ করেন।
সেই ওয়ারিশ সনদে জহিরুলের মা হাজেরা খাতুনের নাম উল্লেখ করা হয়নি। উক্ত ওয়ারিশ সনদ দিয়ে জহিরুলের জমি খারিজ করা হলেও সেখানে মায়ের নাম উল্লেখ ছিল না। সোমবার, যখন সাজেদা ফেনী সদর সাবরেজিস্টার কার্যালয়ে যান, তখন তিনি জহিরুলের রামপুর মৌজার সাড়ে ৪ শতক সম্পত্তি বিক্রির উদ্দেশ্যে দলিল রেজিস্ট্রেশন করার জন্য সাব রেজিস্ট্রার আব্দুর রহমান মোহাম্মদ তামিমের কাছে হাজির হন।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে মোটরসাইকেল-অটোরিকশার সংঘর্ষে বন্ধুর প্রাণ গেল, আহত ২
যখন সাব রেজিস্ট্রার বিষয়টি বিস্তারিত জানতে পারেন, তখন তিনি সন্দেহ করেন। সঙ্গে সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তথ্যের গরমিল পান। তখন সাব রেজিস্ট্রার দলিল সম্পাদনা থেকে বিরত থেকে উপস্থাপিত কাগজপত্র জব্দ করেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে, বুধবার সকালে জহিরুল হকের মা হাজেরা খাতুন সাবরেজিস্ট্রার অফিসে উপস্থিত হয়ে জানান যে, তিনি জীবিত আছেন এবং দলিল রেজিস্ট্রেশন বন্ধ করার জন্য রেজিস্ট্রারকে ধন্যবাদ জানান।
দলিল লেখক আবু ছালেহ টিপু বলেন, ‘আমাকে যেভাবে জমা খারিজ ও ওয়ারিশ সনদ দেওয়া হয়েছিল, আমি সেভাবেই দলিল লিখে দিয়েছি।' পরে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জমা খারিজ ও ওয়ারিশ সনদ ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় উক্ত ভূমির রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে।
ফেনী সাবরেজিস্ট্রি অফিসের রেজিস্ট্রার আব্দুর রহমান মোহাম্মদ তামিম বলেন, ‘জমি রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে মূল মালিকানা এবং কাগজপত্র বিষয়টিকে শতভাগ নিশ্চিত করার জন্য আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় তথ্যের গরমিল পাওয়ায় তাৎক্ষণিক রেজিস্ট্রি বন্ধ করা হয়েছে। যদি ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে দলিল রেজিস্ট্রির চেষ্টা করা হয়, তাহলে বিষয়টি অবিলম্বে আমার নজরে আসে।' তিনি আরও জানান যে, শাশুড়িকে মৃত দেখিয়ে ভুয়া জমা খারিজ ও ওয়ারিশ সনদ তৈরি করা হয়েছিল জমি রেজিস্ট্রেশনের জন্য। পরে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সাজেদা শাশুড়ির জীবিত থাকার কথা স্বীকার করেন। এ বিষয়ে উপস্থাপিত কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে। জমি ক্রয়-বিক্রয়ে প্রতারণা বা রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা করা হলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
আরও পড়ুন: কেরানীগঞ্জে জমির বিরোধে বাড়ি ভাঙচুর, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন