প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) হল রোড এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে। এক পর্যায়ে, দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। স্থানীয়রা সড়কে মানববেষ্টনী তৈরি করে যান চলাচল বন্ধ করে দেন।
এই ঘটনার সময় সজল নামে এক যুবককে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে নিয়ে গিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ জানায়, ওই যুবকসহ দুজনকে তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত হরিণটানা থানাধীন হল রোড এলাকায় উত্তেজনা চলতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। উত্তেজনার কারণে সাংবাদিকদের ঘটনাস্থলে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উত্তেজনা অব্যাহত ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ফেসবুকে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসের কারণে রাত ৮টার দিকে কয়েকজন শিক্ষার্থী সজলকে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। বিষয়টি জানার জন্য স্থানীয় কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে গেলে তাদের সরে যেতে বলা হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে হাতাহাতির উপক্রম হয়।
স্থানীয়দের মতে, পরে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা সজলকে সেখান থেকে নিয়ে আসেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর শিক্ষার্থীরা আবার তাকে নিয়ে যান বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা হল রোডে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, "শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসবাস করতে গিয়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্থানীয়দের বিরোধ তৈরি হচ্ছে। ছোট একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার এক যুবককে ধরে নিয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।" তিনি আরও জানান, স্থানীয় মুরব্বিদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে।
অন্য এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, "একদল শিক্ষার্থী সজলকে ঘিরে জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন। বিষয়টি জানতে গেলে স্থানীয়দের সরে যেতে বলা হয়। পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। মারধরের খবর পেয়ে কয়েকজন স্থানীয় সেখানে গিয়ে তাকে নিয়ে আসেন। পরে আবার শিক্ষার্থীরা তাকে নিয়ে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।"
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, খুবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের তিন শিক্ষার্থীকে মাদকসংক্রান্ত অভিযোগে সাময়িক বহিষ্কার ও জরিমানা নিয়ে ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্ট থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। ওই পোস্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে মাদক সরবরাহ ও সেবনের পাশাপাশি হল রোডের কিছু ব্যাচেলর বাসায় শিক্ষার্থী ও তরুণ-তরুণীদের চলাচল নিয়ে অভিযোগ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এসব অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য দেয়নি। তবে ওই পোস্টের পরই সজলকে ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে বলে স্থানীয়রা জানান।
ঘটনাস্থলে সজলের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "তার ছেলে কোথায় আছে, সে বিষয়ে তিনি জানেন না।" তিনি জানান, তার ছেলে সজলের বয়স ২০ থেকে ২২ বছর।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দীন বলেন, "ওই যুবককে হরিণটানা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।"
হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন জানান, ঘটনার পর দুজনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর একাডেমিক ভবনে মাদকদ্রব্য (গাঁজা) পাওয়ার অভিযোগে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের দ্বিতীয় বর্ষের তিন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কৃতরা হলেন, কাজী রিয়াজুস ছলেহীন, এস এম তৌফিক আলম ও মো. মুশফিক উল ইসলাম।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন