প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দীপক আহুজা ও তার স্ত্রী মধু আহুজা, ষাট বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার উপলক্ষে বহুদিনের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে পবিত্র কৈলাস মানসসরোবর যাত্রায় গিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের আনন্দের মুহূর্তটি আকস্মিক এক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে রূপান্তরিত হয়েছে। নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে ঘটে যাওয়া প্রলয়ংকরী বন্যা এবং ভূমিধসের কারণে এই দম্পতি নিখোঁজ রয়েছেন। ভারতীয় বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে তারা বর্তমানে নিখোঁজ থাকা প্রায় ১ হাজার ৪০০ জনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এই ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত ৪৬৯ জনের প্রাণহানি নিশ্চিত হয়েছে।
দীপক ও মধু আহুজা যুক্তরাষ্ট্র থেকে রওনা দিয়ে ইশা সেক্রিড ওয়াকস অ্যান্ড ট্রেকার্স সোসাইটির ‘এস থ্রি’ গ্রুপের সঙ্গে এই তীর্থযাত্রায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। দীপকের ৬০তম জন্মদিন উপলক্ষে কৈলাস মানসসরোবর ভ্রমণ করা ছিল তার জীবনের অন্যতম বড় একটি ইচ্ছে, যা গত ৪ আগস্ট তার জন্মদিনের কাছাকাছি সময়ে বাস্তবে রূপ নেয়। তিব্বতের সাগা অঞ্চলে পৌঁছানোর পর তাদের ভ্রমণের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল আধ্যাত্মিক গুরু সদগুরুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা। কিন্তু যখন তারা দক্ষিণের সীমান্ত অঞ্চলের দিকে ফেরার জন্য রওনা হন, তখনই চরম আবহাওয়া ও প্রলয়ংকরী বন্যা তাদের সুন্দর যাত্রাপথকে তছনছ করে দেয়।
ঈশা ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে গ্যিরং পোর্ট ইমিগ্রেশন পোস্টে অবস্থান করছিলেন আহুজা দম্পতি। প্রবল বর্ষণ এবং ধারণা করা হচ্ছে হিমবাহ হ্রদ ফাটার কারণে সৃষ্ট আকস্মিক জলচ্ছ্বাস বা ফ্ল্যাশ ফ্লাড মুহূর্তের মধ্যে ঐ এলাকার রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয়। ইমিগ্রেশন অফিসটিতে পৌঁছানোর মাত্র কয়েক মিনিট পরেই এই বন্যা আঘাত হানে। ঘটনার আকস্মিকতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, মেয়ে শ্রেয়া ও আশনা আহুজা জানান, দুর্যোগের ঠিক আগমুহূর্তেও আইফোনের ‘ফাইন্ড মাই’ ফিচারের মাধ্যমে তারা বাবা-মায়ের সঠিক স্থানাঙ্ক ট্র্যাক করতে পারছিলেন। কিন্তু বন্যার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই অ্যাপটিতে তাদের বাবা-মায়ের লোকেশন সম্পূর্ণ নিশ্চুপ ও অচল হয়ে যায়।
মেয়ে শ্রেয়া পুরো ঘটনাটির বিবরণ দিয়ে সংবাদমাধ্যমকে জানান, তারা বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলেই ঘুমাতে গিয়েছিলেন এবং সকালে ঘুম ভেঙে বন্যার এই ভয়ানক সংবাদ দেখতে পান। এরপর ইশা ফাউন্ডেশনের পাঠানো ইমেলের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন যে তাদের বাবা-মাও এই দুর্যোগের শিকার হওয়া দলের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। অপর বোন আশনা আহুজা জানান, কৈলাস যাত্রা তাদের বাবার ৬০তম জন্মদিনের একটি সাধারণ ভ্রমণ ছিল না, বরং এটি ছিল পরিবারের জন্য অত্যন্ত আবেগঘণ ও দীর্ঘদিনের পরম কাঙ্ক্ষিত একটি স্বপ্ন। নিখোঁজ হওয়ার আগে শেষ কথোপকথনে বাবা-মা সদগুরুর সঙ্গে সাক্ষাতের দারুণ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছিলেন এবং সে সময় তারা অত্যন্ত আনন্দিত ছিলেন।
নিখোঁজ বাবা-মায়ের সঙ্গে দ্রুত পুনর্মিলনের আশায় দেশ-বিদেশের বিভিন্ন দূতাবাস এবং উদ্ধারকারী দলগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন এই দুই বোন। মিডিয়ার মাধ্যমে বাবা-মায়ের উদ্দেশে আবেগঘন বার্তায় তারা বলেন, "আমরা শুধু তাদের জানাতে চাই যে আমরা তাদের অনেক ভালোবাসি। অনেক মানুষ তাদের জন্য যোগাযোগ করছে এবং সহযোগিতা করছে, আমরা চাই তারা যেন শক্ত থাকে। আমরা জানি, তারা এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে পারবে এবং আমরা সত্যিই চাই তারা যেন নিরাপদে বাড়ি ফিরে আসে।"
সূত্র: এনডিটিভি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন