প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্বের বিভিন্ন শহরের মতো, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা দীর্ঘকাল ধরে বায়ুদূষণের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। সর্বশেষ বায়ুর মান সূচক অনুযায়ী, ঢাকার বাতাসের মান অস্বাস্থ্যকর বলে চিহ্নিত হয়েছে।
আইকিউএয়ারের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (এএকিউআই) অনুযায়ী, রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল ৮টায় ঢাকার স্কোর ছিল ১৭৮। এই স্কোরের ভিত্তিতে, ঢাকার বায়ুর মান অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সময়ে, বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ষষ্ঠ।
পাকিস্তানের লাহোর ২১১ স্কোর নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে। এছাড়া, সিঙ্গাপুরের সিঙ্গাপুর ২০২ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে, ভারতের দিল্লি ২০০ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে, ভারতের মুম্বাই ১৯৮ স্কোর নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে এবং মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর ১৮১ স্কোর নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার এই তালিকা প্রকাশ করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিমুহূর্তের বাতাসের মানের উপর ভিত্তি করে একিউআই (এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স) সূচক তৈরি করে, যা একটি নির্দিষ্ট শহরের বায়ু কতটুকু নির্মল বা দূষিত, সে সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে। এছাড়া, এটি স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে জানিয়ে থাকে।
একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো হিসেবে গণ্য করা হয়। ৫১ থেকে ১০০ সহনীয় বা মাঝারি হিসেবে বিবেচিত হয়। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে চিহ্নিত হয়। ১৫১ থেকে ২০০ স্কোর অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০১ থেকে ৩০০ স্কোর খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১-এর বেশি স্কোর দুর্যোগপূর্ণ বলে গণ্য করা হয়।
বায়ুদূষণ গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে এবং এটি সব বয়সের মানুষের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি, প্রবীণ এবং অন্তঃসত্ত্বাদের জন্য বায়ুদূষণ অত্যন্ত ক্ষতিকর।
বাংলাদেশে একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের ৫টি বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে, যা হলো বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন (ও৩)।
২০১৯ সালের মার্চ মাসে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঢাকার বায়ুদূষণের তিনটি প্রধান উৎস হলো ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া এবং নির্মাণ সাইটের ধুলা।
ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণের কারণে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যানসার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের কারণে মৃত্যুহার বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে, বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষ মারা যাচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন