প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পছন্দের মানুষকে কিভাবে মনের কথা জানাবেন, প্রথম ডেটে কী নিয়ে আলোচনা করবেন কিংবা কিভাবে কাউকে আকৃষ্ট করবেন—এসব বিষয়ে অনেকেই বন্ধুদের পরামর্শ গ্রহণ করেন। তবে বর্তমানে সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। ভারতীয়রা ডেটিং থেকে শুরু করে প্রেমের কথোপকথন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের পরিচিতি আকর্ষণীয় করে তুলতেও এআইয়ের সাহায্য নিচ্ছেন।
ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে-এর একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ডেটিং অ্যাপ গ্লিডেন এবং গবেষণা সংস্থা ইপসোসের একটি সমীক্ষায় দিল্লি, মুম্বাই ও হায়দরাবাদের বাসিন্দাদের মধ্যে এআই ব্যবহারের প্রবণতা উঠে এসেছে। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া দিল্লির ৫৫ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, গত ১২ মাসে কাউকে আকৃষ্ট করার কৌশল উন্নত করতে তাঁরা এআইভিত্তিক কথোপকথন ব্যবস্থার সাহায্য নিয়েছেন। মুম্বাইয়ে এই হার ৪৯ শতাংশ, হায়দরাবাদে ৪৮ শতাংশ এবং বেঙ্গালুরুতে ৪৭ শতাংশ।
সমীক্ষা অনুযায়ী, শুধু কাউকে আকৃষ্ট করার কৌশল শেখার পাশাপাশি অনলাইন ডেটিং প্রোফাইল সাজানো এবং সম্ভাব্য সঙ্গীর সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদানের ক্ষেত্রেও এআইয়ের সাহায্য নিচ্ছেন অনেকে। দিল্লি ও মুম্বাইয়ের ৪৬ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, গত এক বছরে ডেটিং বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইলের বিবরণ উন্নত করতে তাঁরা এআই ব্যবহার করেছেন। বেঙ্গালুরুতে এই হার ৩৫ শতাংশ এবং হায়দরাবাদে ২৬ শতাংশ।
অন্যদিকে, সম্ভাব্য সঙ্গীর সঙ্গে লিখিত কথোপকথন আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে এআই ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন দিল্লি ও বেঙ্গালুরুর ৪৬ শতাংশ উত্তরদাতা।
গ্লিডেন ও ইপসোসের ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির আরেকটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৬৫ শতাংশ পুরুষ এবং ৬০ শতাংশ নারী জীবনের কোনো না কোনো সময়ে কাউকে আকৃষ্ট করার কৌশল উন্নত করতে এআই ব্যবহার করেছেন। প্রথম ডেটের জন্য জায়গা বা কার্যক্রমের ধারণা পেতেও এআইয়ের পরামর্শ নিয়েছেন ৬৪ শতাংশ পুরুষ ও ৬১ শতাংশ নারী।
ডেটিং অ্যাপ আইসলের ৮ হাজার ২৪০ জন শহুরে অবিবাহিত ভারতীয়কে নিয়ে করা পৃথক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ৫৩.১ শতাংশ নারী নিজেদের অনুভূতি ও সম্পর্কের উদ্বেগ নিয়ে কথা বলতে এআইয়ের সাহায্য নেন। জেনারেশন জেড বা জেন-জেডের ৩৭.৩ শতাংশ জানিয়েছেন, পছন্দের মানুষের পাঠানো দুর্বোধ্য বার্তার অর্থ বুঝতে তাঁরা এআইকে প্রশ্ন করেছেন।
তবে এআই ব্যবহারের বিষয়ে সবার মনোভাব এক নয়। ওই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২৪.৩ শতাংশ উত্তরদাতা নিজেরা এআই ব্যবহার করলেও সম্ভাব্য সঙ্গী একই কাজ করলে তাঁরা অস্বস্তি বোধ করবেন বলে জানিয়েছেন।
শহরভেদেও এআই নিয়ে মানুষের মনোভাবের পার্থক্য রয়েছে। বেঙ্গালুরুর ৫৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, এআই দিয়ে লেখা বার্তা চেনা সম্ভব। তবে ৮৮ শতাংশের ধারণা, এআইয়ের সাহায্যে তৈরি প্রথম বার্তা ভবিষ্যতে ডেটিংয়ের স্বাভাবিক অংশ হয়ে উঠবে।
দিল্লি-এনসিআরের ৪০.৫ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, সরাসরি ডেটে কথা বলার চেয়ে এআইয়ের সঙ্গে কথোপকথন তাঁদের কাছে বেশি অর্থবহ মনে হয়। মুম্বাইয়ের ৬৯.১ শতাংশ অবশ্য এআইয়ের পরামর্শের চেয়ে নিজেদের স্বাভাবিক বিচারবুদ্ধির ওপর বেশি আস্থা রাখেন। পুনের ৪২ শতাংশের মতে, এআইয়ের উৎসাহমূলক পরামর্শ তাঁদের ডেটিংয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।
এআইয়ের তাৎক্ষণিক উত্তর পাওয়া যায়, এটি বিচার করে না—এমন ধারণা অনেককে এর প্রতি আকৃষ্ট করছে। আইসলের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বন্ধুদের বদলে এআইয়ের সাহায্য নেওয়ার পেছনে ২১.৪ শতাংশ উত্তরদাতা তাৎক্ষণিক উত্তর পাওয়াকে এবং ১৮.৩ শতাংশ বিচারহীনভাবে কথা বলার সুযোগকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে বিশেষজ্ঞরা এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত আবেগগত নির্ভরতা নিয়ে সতর্ক করেছেন। তাদের মতে, এআইয়ের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা বাস্তব সম্পর্ক ও কল্পনার মধ্যকার সীমারেখা অস্পষ্ট করতে পারে। এর ফলে অবাস্তব প্রত্যাশা, অতিরিক্ত আসক্তি, একাকিত্ব কিংবা নিজের প্রতি অসন্তুষ্টি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পছন্দের মানুষকে মনের কথা জানাতে বা কথোপকথনের প্রস্তুতি নিতে এআই সহায়ক হতে পারে। তবে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত অনুভূতি, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বাস্তব যোগাযোগের গুরুত্বও সমানভাবে বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন