প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং বর্তমানে জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভকে নিজের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
রুশ প্রতিনিধিদলে আরও থাকবেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা, রাশিয়ান অর্থোডক্স চার্চ-এর ধর্মযাজক, সুন্নি মুফতি এবং শিয়া ধর্মীয় আলেমরা। রাশিয়ার এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল জানাজায় অংশ নিয়ে ইরানের প্রতি সমবেদনা জানাবে এবং দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে উপস্থিত থাকবে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলার প্রথম দিন নিহত হন। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে তার রাষ্ট্রীয় দাফনানুষ্ঠান কয়েক দফা পিছিয়ে দেওয়া হয়।
ইরান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ৬ জুলাই খামেনির আনুষ্ঠানিক জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এসব কর্মসূচির কারণে তেহরান প্রদেশে তিন দিন সরকারি ছুটি কার্যকর থাকবে। এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। দেশ-বিদেশের কয়েক লাখ মানুষ এই দাফনানুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা বিষয়ক উপমন্ত্রী এবং আয়োজক কমিটির প্রধান আলী আকবর পুরজামশিদিয়ান জানিয়েছেন, এরই মধ্যে ৯০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা ও গবেষক এই আয়োজনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
তিনি আরও জানান, অন্তত ৩০টি দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাঠানোর আবেদন করেছে। আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে অনুষ্ঠানটি কয়েকদিনব্যাপী আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৮ জুলাই খামেনির মরদেহ ইরাকের বাগদাদ বা নাজাফে নেওয়া হবে। সেখানে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা জানানো হবে। এরপর নাজাফ ও কারবালায় শোকমিছিল ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে। পরদিন ৯ জুলাই ইরানের মাশহাদে ইমাম রেজার মাজারের কাছে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, পুরো আয়োজনটি জাতীয় পর্যায়ের একটি কেন্দ্রীয় কমিটির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরিফ এর নেতৃত্বে একটি জাতীয় সদর দফতর এ কার্যক্রম সমন্বয় করছে।
অনুষ্ঠান ঘিরে ইরানে কয়েক দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তেহরান, কোম ও খোরাসান রাজাভি প্রদেশসহ বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে ছুটি থাকবে। জনসাধারণের যাতায়াত সহজ করতে তেহরানের মেট্রো ও বাসসেবা ২৪ ঘণ্টা বিনামূল্যে চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া অনুষ্ঠানে বিদেশি সাংবাদিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে ৩০০ জনেরও বেশি গণমাধ্যমকর্মী নিবন্ধন করেছেন। আয়োজকরা জানিয়েছেন, পুরো আয়োজন চলাকালে ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা থাকবে না। কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই বিদায়ী অনুষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ ও আঞ্চলিক সংহতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদর্শনী হয়ে উঠবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন