প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পটুয়াখালী সদর উপজেলার ৩ নম্বর ইটবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান মোসাম্মৎ খালেদা আক্তার স্থানীয় শাহিন আলমের বিরুদ্ধে মানহানি, হয়রানি, হামলা এবং মামলায় জড়িয়ে হয়রানির অভিযোগ করেছেন।
সম্প্রতি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত ও মৌখিক বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন তিনি।
মোসাম্মৎ খালেদা আক্তার বলেন, তিনি প্রায় ২৪ বছর ধরে ইউপি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। গত এক বছর নয় মাস ধরে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর দাবি, এ সময়ে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তাঁর দায়িত্ব পালনের বিষয়ে কোনো অভিযোগ ওঠেনি।
তবে তাঁর অভিযোগ, স্থানীয় শাহিন আলমের কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও মানহানির শিকার হয়ে আসছেন। খালেদা আক্তারের দাবি, একপর্যায়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পেছনে শাহিন আলমসহ কয়েকজন তাঁর ওপর হামলা করেন। এ সময় তাঁর ব্যাগ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। স্থানীয় কয়েকজনের সহযোগিতায় তিনি ওই পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পান বলে জানান।
খালেদা আক্তার আরও অভিযোগ করেন, শাহিন আলম আদালতের মহরি হিসেবে কাজ করেন এবং তাঁর বড় ভাই আউয়াল হোসেন আইনজীবী হওয়ায় তাঁদের প্রভাব ব্যবহার করে এলাকায় সাধারণ মানুষকে মামলায় হয়রানি করা হয়। জনপ্রতিনিধি হিসেবে এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় তাঁকেও বিভিন্ন মামলায় হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, একটি নির্বাচনে তাঁর সঙ্গে শাহিন আলমের স্ত্রী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ওই নির্বাচনে তিনি প্রায় ১ হাজার ৫০০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন এবং শাহিন আলমের স্ত্রী প্রায় ৬০০ ভোট পেয়ে পরাজিত হন। এরপর থেকেই তাঁকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন খালেদা আক্তার।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় তিনি সংশ্লিষ্ট আদালতে ৩২২ নম্বর মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে শাহিন আলম তাঁর বিরুদ্ধে ১৪০৪ নম্বর মামলা দায়ের করেন। ওই মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন বলে দাবি করেন। এছাড়া ৫২৫ নম্বর মামলায় তাঁকে আসামি করা হয় এবং ওই মামলা থেকেও চলতি বছরের জুন মাসে অব্যাহতি পেয়েছেন বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে খালেদা আক্তার বলেন, একজন জনপ্রতিনিধি হয়েও তিনি যদি এভাবে হয়রানির শিকার হন, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দেয়। তিনি এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ সময় তিনি জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জরুরি ভিত্তিতে সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে শাহিন আলমের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।
তালাশ বিডির প্রতিনিধিদের কাছে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানান ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান মোসাম্মৎ খালেদা আক্তার।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন