প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রকৃতিতে শীতের আগমনী বার্তা আসতে শুরু করেছে; রোদের তীব্রতা ধীরে ধীরে কমছে। এই ঋতু পরিবর্তনের সময়ে কৃষকেরা শীতকালীন শাকসবজি চাষাবাদের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে শীতকালীন শাকসবজি চাষের কাজে কৃষকদের এই ব্যস্ততা স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাজারদর ভালো হলে আগাম সবজিতে লাভবান হওয়ার আশা করছেন তারা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে দেখা যায়, কৃষকরা জমি প্রস্তুত, সার প্রয়োগ, আগাছা পরিষ্কার এবং চারা রোপণসহ ক্ষেতের পরিচর্যা করছেন। কেউ নিজে জমির পরিচর্যা করছেন, আবার কেউ শ্রমিক নিয়োগ করে আগাম সবজি উৎপাদনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠের অধিকাংশ জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু জমিতে শীতকালীন সবজি চাষ চলছে। সবজিক্ষেতে মূলা, পালংশাক, লালশাক, ডাটা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, শিম, আলু, সরিষা, মরিচ, বেগুন, ধনিয়া, মিষ্টিকুমড়া ও গাঁজরসহ বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন শাকসবজি রয়েছে।
মুমুরদিয়া ইউনিয়নের পিপুলিয়া এলাকার কৃষক রমজান জানান, তিনি ৪০ শতাংশ জমিতে মরিচের আবাদ করেছেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে তিনি ভালো ফলন পাবেন বলে আশা করছেন। তার মতো অনেক কৃষক এবার শীতকালীন সবজি চাষাবাদ করেছেন বলে তিনি জানান।
জালালপুর ইউনিয়নের পূর্ব ফেকামারা গ্রামের কৃষক হেকিমের ভাষ্য, আগাম সবজি বাজারে তুলতে পারলে ভালো দাম পাওয়া যায়। এতে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে লাভের মুখ দেখার সম্ভাবনা থাকে। তবে আগাম সবজি চাষে বাড়তি খরচ ও রোগবালাইয়ের ঝুঁকি রয়েছে।
হেকিম জানান, সময়মতো জমি তৈরি, সার প্রয়োগ, সেচ এবং পোকামাকড় ও রোগবালাই দমনে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হয়। ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি কাঙ্খিত দাম না পেলে লোকসানের আশঙ্কাও থাকে।
কটিয়াদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘উপজেলার কৃষকরা শীতকালীন আগাম সবজি চাষ শুরু করেছেন। মৌসুমের শুরুতে ভালো দাম পাওয়ার আশায় অনেক কৃষক আগেভাগে ফসল বাজারে তুলতে চান। এ ক্ষেত্রে সঠিক জাত নির্বাচন, জমি ও মাটির উপযোগী সার ব্যবস্থাপনা এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করা জরুরি।
কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘সঠিক পদ্ধতি অনুসরণে উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রোগ-বালাইয়ের ঝুঁকিও কমানো সম্ভব। মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন