প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে মাঠপর্যায়ে পুলিশ প্রশাসনে অস্থিরতা ও অসন্তোষ বাড়ছে। বিশেষ করে পদায়ন বাণিজ্য নিয়ে পেশাদার পুলিশ সদস্যরা খুবই হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে পড়ছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। পরিস্থিতি উত্তরণের জন্য পুলিশ প্রশাসনে বদলি বাণিজ্য জিরো টলারেন্সের মাধ্যমে বন্ধ করতে হবে। পদায়ন ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা এবং যোগ্যতাকে অন্যতম মাপকাঠি হিসাবে বিবেচনা করতে হবে। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এটি জরুরি। অন্যথায়, পুলিশের কোনো একটি অংশ ইচ্ছাকৃতভাবে দায়িত্বে অবহেলা করলে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরো নাজুক হয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। পুলিশের প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। সূত্র মতে, দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও পুলিশের প্রশাসনে স্বস্তি ফিরে আসেনি। বরং এখানে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে।
সেক্ষেত্রে সবার আগে বদলি বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। তা না হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে না। অর্থের বিনিময়ে পদের পরিবর্তন হলে কর্মকর্তারা স্বাভাবিকভাবেই আইন-শৃঙ্খলার চেয়ে বিনিয়োগ তোলার দিকে বেশি নজর দেবেন। বর্তমান পুলিশ প্রশাসন বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কালে শুরু হওয়া মব কালচার দমনে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারছে না। আর যদি দেশে বড় ধরনের আন্দোলন বা শোডাউন ঘটে তবে তা নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে চরম বেগ পেতে হবে। সূত্র জানায়, উপযুক্ত কর্মকর্তাদের সংক্ষিপ্ত তালিকা বা ফিট লিস্ট অনুসরণ করে পুলিশ প্রশাসনে পদোন্নতি-পদায়ন করা হচ্ছে না। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংবেদনশীল স্থানগুলো, যেমন জেলার এসপি, রেঞ্জ ডিআইজি এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পদগুলোতে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে পদায়নের অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া অতিরিক্ত আইজিপি পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ (বিশেষ করে ইউনিট প্রধান) পদগুলোও অর্থ ও তদবিরের বিনিময়ে বণ্টনের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। পুলিশ সুপারদের (এসপি) জন্য ৬৪টি জেলাসহ প্রায় ১০০টি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা রয়েছে। কিন্তু বাহিনীতে এসপির সংখ্যা ৭০০-এর বেশি। নিয়ম অনুযায়ী ব্যাচভিত্তিক মূল্যায়নের মাধ্যমে স্বচ্ছভাবে ফিট লিস্ট তৈরি করে পদায়ন করার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। বরং নানামুখী তদবিরের মাধ্যমে নিচের দিকে থাকা অযোগ্য বা তোষামোদকারী অফিসাররা গুরুত্বপূর্ণ পদে পোস্টিং পাচ্ছেন। পাশাপাশি তাদের দ্রুত প্রত্যাহার করাও হচ্ছে। এইসব ঘটনার কারণে পুলিশের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ফলে অনেকের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে। ইতিপূর্বে পুলিশ প্রশাসনে রাজনৈতিক অজুহাতে অনেক কর্মকর্তাই তাদের প্রাপ্য পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এখন পদোন্নতি কেন্দ্রিক বাণিজ্য চলছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং সহকর্মীদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে অনেক ভালো অফিসারকে রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে জোরপূর্বক বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে, অথচ তারা ছিলেন অভিজ্ঞ ও দক্ষ।
তাদের পেশাগত জীবনে সাফল্য ও সততা সর্বজনবিদিত ছিল। কোনো সুনির্দিষ্ট বা বড় ধরনের অভিযোগ ছাড়া একের পর এক জ্যেষ্ঠ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের অবসরে পাঠানো হচ্ছে, যা পুলিশের বিভিন্ন স্তরে মনস্তাত্ত্বিক চাপের সৃষ্টি করেছে। এ কারণে কর্মকর্তাদের কাজের স্পৃহা এবং পেশাদারিত্ব মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সূত্র আরো জানায়, পুলিশ প্রশাসনে নিয়োগ ও পদোন্নতি বিধিমালার (পিআরবি) ইচ্ছামতো সংশোধন পুলিশ অভ্যন্তরীণ কাঠামোর চেইন অব কমান্ড ভেঙে দিয়েছে। ৪ হাজার নতুন এএসআই পদ মঞ্জুরের ক্ষেত্রে ৫০ ভাগ বিভাগীয় প্রমোশন এবং ৫০ ভাগ সরাসরি নিয়োগের নিয়ম মেনে চলা হয়। কিন্তু সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) পদের ক্ষেত্রে এ নিয়মটি মানা হয়নি। বরং পিআরবি সংশোধন করে এসআই পদে সরাসরি নিয়োগের প্রক্রিয়া কার্যকর হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে যোগ্যতার ভিত্তিতে এএসআই থেকে এসআই হওয়ার অপেক্ষায় থাকা বিভাগীয় কর্মকর্তাদের পদোন্নতির পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে।
এর ফলে মাঠপর্যায়ে চরম অসন্তোষ বাড়ছে। ফলে পুলিশের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি অধস্তনদের আস্থা কমে যাচ্ছে। অধস্তনরা নিজের দায় নিয়ে কাজ করতে ভয় পাচ্ছে। পুলিশের মতো একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর মধ্যে এভাবে ক্ষোভ, অনিয়ম, ঘুষবাণিজ্য এবং পদায়ন নিয়ে বিশৃঙ্খলা চলতে থাকলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি কখনো সম্ভব নয়। এদিকে, এ ধরনের বিষয়গুলো সম্পর্কে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (অ্যাডমিন), খোন্দকার রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা যে অভিযোগ রয়েছে তার কোনো সত্যতা নেই। বর্তমান আইজিপির বিরুদ্ধে পুলিশে একটি গ্রুপ সক্রিয় আছে, যারা নানা ধরনের অপতথ্য ছড়াচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন