প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আমাদের দুজনকে যদি বিয়ে না দেয়, তাহলে আমরা আত্মহত্যা করব” এভাবেই বলছে মাত্র পঞ্চম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর পড়ুয়া প্রেমিক-প্রেমিকা। যাদের প্রেমের ঘটনা লাইলি-মজনু কিংবা শিরি-ফরহাদের গল্পকেও হার মানায়। এটি কোনো সিনেমার কাহিনী নয়, বরং রাজধানী ঢাকার মিরপুরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা। ভালোবাসার কারণে তারা পরিবারকে জানিয়ে না, ঢাকা থেকে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে রাজবাড়ীর পাংশায় চলে এসেছে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি, পাংশা মডেল থানার পুলিশের সন্দেহের কারণে বর্তমানে তারা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
পুলিশ ও পরিবারের সূত্রে জানা যায়, ঢাকার মিরপুরের একটি বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়াশোনা করে মোহাম্মদ রাহুল, যিনি পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় একটি হোটেলে কাজ করে। একদিন ওই হোটেলেই খেতে এসেছিলো একই এলাকার দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী মাহি। সেখান থেকেই মাহির প্রতি ভালো লাগার সৃষ্টি হয় রাহুলের। পরে এক বন্ধুর মাধ্যমে মাহিকে প্রেমের প্রস্তাব দেয় রাহুল। প্রথম তিনবার মাহি প্রত্যাখ্যান করলেও, চতুর্থবারের চেষ্টা সফল হয়। এরপর থেকে চলতে থাকে তাদের প্রেমের সম্পর্ক, যা গত এক বছর ধরে ছিল।
রাহুলের বয়স মাত্র ১১ বছর এবং মাহির বয়স ১০ বছর। তাদের বয়স কম হওয়ার কারণে দুই পরিবারের পক্ষ থেকে এ সম্পর্ক মেনে নেয়া হয়নি। এর ফলে গত শুক্রবার রাহুল ও মাহি, তাদের বন্ধু প্রথম শ্রেণীর পড়ুয়া রোজানের সহযোগিতায় বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় বিয়ে করার উদ্দেশ্যে। তাদের পরিবার বিভিন্ন স্থানে সন্তানদের খোঁজার জন্য মেশিনে অনুরোধ করে কিন্তু কোনো সন্ধান পায়নি।
রাহুল ও মাহি তাদের সম্পর্ক বজায় রাখতে, তাদের বন্ধুকে নিয়ে গত সোমবার রাতে ঢাকা থেকে একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে রাজবাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে অ্যাম্বুলেন্সটি পাংশা সরদার বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছালে গভীর রাতে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে ছোট শিশুদের দেখে টহল পুলিশের সন্দেহ হয়। পরে পাংশা মডেল থানার পুলিশ তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে প্রেমিক প্রেমিকা পুলিশের কাছে তাদের প্রেমের কথা স্বীকার করে। তারা জানায়, "আমরা দুজনকে ভালোবাসি এবং বিয়ে করতে চাই। পরিবার রাজি না হওয়ার কারণে আমরা বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছি। যদি আমাদের বিয়ে না দেয়, আমরা আত্মহত্যা করব।"
তবে তাদের সহায়ক বন্ধু রোজান জানায়, সে এ পালিয়ে আসার মূল কারণ জানত না। ঢাকা থেকে রওনা হওয়ার পর সে বিষয়টি বুঝতে পারে। পরে পুলিশ ওই শিশুদের কাছে থাকা মোবাইল ফোনের সাহায্যে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে।
পাংশা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, ভোররাতে সন্দেহজনক অবস্থায় একটি অ্যাম্বুলেন্স থেকে আমরা এ তিন শিশুকে উদ্ধার করি। পরে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে জানা যায়, তাদের মধ্যে দুজন প্রেমিক-প্রেমিকা এবং তারা ঘর ছেড়ে পালিয়েছে। আমরা তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছি এবং অভিভাবকরা থানায় আসার পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের হস্তান্তর করা হয়।
তিনি বলেন, মূলত অপ্রাপ্তবয়সী শিশুরা আজ এ বয়সে বিপথগামী অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপের দিকে প্রবাহিত হচ্ছে বাবা-মার অসচেতনতা ও সঠিক নজরদারির অভাবে। সন্তানদের প্রতি অভিভাবকদের আরো বেশি যত্নশীল ও সতর্ক থাকতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন