প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটের রায় যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে জনগণ গণতন্ত্র ও নির্বাচনী প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাদের আস্থা হারাবে এবং জনগণ সরকারের প্রতি ধিক্কার দেবে।
তিনি বলেন, আমরা বিরোধীদল হিসেবে জনগণের ধিক্কারের পাত্র হতে চাই না। এই দায়িত্ব আমরা (বিরোধীদল) নেব না। এর কারণেই আমাদের লড়াই এবং সংগ্রাম বিদ্যমান।
রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আয়োজনে ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’ প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি দল স্বাধীন বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, নির্বাচন কমিশন চায় না। তারা পুরনো ফ্যাসিবাদী আলোকে সবকিছু রাখতে চায়। এজন্য তারা গণভোটের গণরায় মানতে চায় না। আমরা স্পষ্ট করে বলছি- এই রায় বাংলার জমিনে বাস্তবায়িত হবে, ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরও বলেন, জনগণকে অপমান করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। ৭০ ভাগ মানুষ যে রায় দিয়েছে, আল্লাহর মেহেরবানীতে এটি অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে। আমরা সংসদে ও রাজপথে লড়াই করব। যদি সংসদে দাবিটি আদায় হয়, তাহলে আলহামদুলিল্লাহ, আর যদি না হয়, তাহলে রাজপথে আন্দোলন করে দাবিগুলো আদায়ে বাধ্য করা হবে।
জামায়াতের আমির বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কোন ছাড় নাই। কোনো ধানাই পানাই মানবো না। আমাদের অনেক লোভ দেখানো হয়েছে, কিন্তু আমরা সব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছি। জনগণের সঙ্গে আমরা বেইমানি করব না এবং জনগণের রায়কে অপমান করব না। যদি গণভোটের রায় ব্যর্থ হয়, তাহলে জনগণ গণতন্ত্র ও নির্বাচনী প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা হারাবে। জনগণ ধিক্কার দেবে, এবং সেই ধিক্কারের পাত্র বিরোধীদল হতে চায় না। এই দায়িত্ব আমরা নেব না। এর কারণেই আমাদের লড়াই ও সংগ্রাম।
তিনি বলেন, সরকার এখন স্বৈরশাসকের ভাষায় বিভিন্ন কথা বলছে। তাদের চেলাচামুন্ডা ও বটবাহিনী মানুষের ইজ্জত নিয়ে খেলে। আবার সেই ফ্যাসিবাদ!
জামায়াতের আমির বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আর গণরুম হতে দেওয়া হবে না। গণরুম এবং গেষ্টরুমের কবর হয়ে গেছে চব্বিশে-এটি আর ফিরে আসবে না। এখন যদি কেউ ফিরিয়ে আনতে চাই, তাহলে তাদেরকেই ফিরিয়ে দেওয়া হবে। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে আর এটি হবে না।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় এখনও রাজনৈতিক অপচর্চামুক্ত হয়নি। রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেক জায়গায় অনেক কিছু করা হচ্ছে। আমরা চুপচাপ আছি, এভাবে মনে করবেন না আমরা ঘুমিয়ে গেছি, সতর্ক করেছেন তিনি।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জনগণের স্বার্থের সাথে কোন আপস হবে না। কোনো অপশক্তির কাছে আমাদের মাথাও নত হবে না। দেশীয়, আঞ্চলিক, আন্তর্জাতিক- এটি যাই হোক। যুবকদের প্রত্যাশার ও আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়ার জন্য বাকী জীবনকে আমরা উজার করে দেব। যুবকদের সাথে লড়াই করব। যুবকদের সঙ্গে ও সম্মুখভাগে থেকে মুক্তির আন্দোলন চলবে। এ আন্দোলন কেউ বন্ধ করতে পারবে না- প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ওয়াদা করে গেলাম, বলেন তিনি।
এসময় আমির জামায়াতের সাথে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন ও সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি। এছাড়া ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও ডাকসু এজিএস মহিউদ্দিন খানসহ ডাকসু নেতৃবৃন্দ, জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্র ও মহানগরীর বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী।
পরে আমির জামায়াত নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে ডাকসু নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক আহ্বায়ক শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির কবর জিয়ারত করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন