প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার ৫ দিন পর মারা গেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বাসিন্দা সোহেলী ইসলাম সোমা (৪২)। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ভোর ৫টার দিকে তিনি রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
নিহত সোমা পার্বতীপুর শহরের সাহেবপাড়া রেলওয়ে কলোনির বাসিন্দা এবং মৃত মাহাবুবুল ইসলাম বুলবুলের মেয়ে ছিলেন। তিনি ঢাকার ধানমণ্ডির সেন্ট্রাল রোডের একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন এবং একটি ওষুধ কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোমা ঈদের ছুটি শেষে ৬ জুন রাতে পার্বতীপুর থেকে হক এন্টারপ্রাইজের একটি নাইট কোচে ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পরদিন ৭ জুন ভোরে গাবতলী বাস টার্মিনালে পৌঁছে অটোরিকশাযোগে তার বাসার দিকে রওনা দেন।
পথিমধ্যে মোটরসাইকেলে থাকা একদল ছিনতাইকারী তার ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালান। তখন ব্যাগে টান দেয়ার ফলে তিনি রাস্তার পাশে থাকা ডিভাইডারের ওপর পড়ে যান এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পান।
পরে তাকে উদ্ধার করে রাজধানীর আনোয়ার মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর, বৃহস্পতিবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।
নিহত সোমার ফুফাতো ভাই সরোয়ার পারভেজ সবুজ জানান, সোমার বাবা-মা অনেক আগেই মারা গেছেন এবং তার কোনো ভাই-বোনও নেই। তার একমাত্র মেয়ে নওমী ইসলাম ঢাকার একটি কলেজে অনার্সে পড়াশোনা করছেন। সোমার চাকরির আয়ে তার লেখাপড়ার খরচ চলত।
তিনি বলেন, 'সোমার অকালমৃত্যুতে তার মেয়েটি এখন পুরোপুরি এতিম হয়ে গেল। একই সঙ্গে তার ভবিষ্যৎ শিক্ষা জীবন নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।'
বৃহস্পতিবার বিকেলে সোমার মরদেহ পাবনার ঈশ্বরদী পৌরসভার পশ্চিম টেহরি মহল্লায় তার নানার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জানাজা শেষে বিকেল ৪টার দিকে তার দাফন সম্পন্ন হয়। এই অকালে মৃত্যুতে তার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন