প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রেক্ষিতে সউদী আরবকে সামরিক সহায়তা দিতে সরাসরি মাঠে নামার ইঙ্গিত দিচ্ছে পাকিস্তান ও তুরস্ক। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে তিন দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রিয়াদে জরুরি বৈঠকে বসছেন সউদী, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধানরা।
শুক্রবার তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, তাদের চিফ অফ জেনারেল স্টাফ জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারোগলু রিয়াদ যাচ্ছেন। একইসঙ্গে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরও শিগগিরই রিয়াদ পৌঁছাবেন বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি সউদী আরবের রাজধানী রিয়াদ, ইয়ানবুতে অবস্থিত সউদী আরামকোর তেল শোধনাগার এবং তায়েফ শহর লক্ষ্য করে একযোগে বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় হুথিরা। এছাড়া মক্কা ও জেদ্দায় জরুরি সতর্কতা জারি করে সউদী কর্তৃপক্ষ। এর প্রেক্ষাপটে গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সহায়তা চেয়ে আঙ্কারা ও ইসলামাবাদের শরণাপন্ন হয় রিয়াদ। উক্ত চুক্তি অনুযায়ী—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে বাকি দুই দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে তিনটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের পরেই সামরিক প্রধানদের এই জরুরি বৈঠকের ঘোষণা আসে। সউদী আরব জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিজেদের আত্মরক্ষার অধিকারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মিত্রদের কাছ থেকে সরাসরি পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছে।
তবে প্রকাশ্যে কড়া বার্তা দিলেও হুথিদের সরাসরি হুমকি এবং নিজস্ব সামরিক বাস্তবতার কারণে সতর্ক পদক্ষেপ নিচ্ছে পাকিস্তান ও তুরস্ক। ইতিমধ্যে হুথিদের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-বুখাইতি সতর্ক করে বলেছেন, পাকিস্তান বা তুরস্ক যুদ্ধে অংশ নিলে তাদের "লোহার হাত" দিয়ে দমন করা হবে।
ইসলামাবাদের পলিসি স্টাডিজ ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষকদের মতে, আফগানিস্তান সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সামলাতে গিয়ে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এমনিতেই বেশ ব্যস্ত। অন্যদিকে তুরস্কও নেটোর প্রতিশ্রুতি এবং সিরিয়া সীমান্ত সুরক্ষায় ব্যস্ত থাকায় সরাসরি পদাতিক সৈন্য পাঠানো কঠিন হতে পারে। তবে প্রযুক্তিগত সহায়তা, সামরিক উপদেষ্টা প্রদান এবং আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে বড় ভূমিকা রাখতে পারে দুই দেশ। ইতোমধ্যেই পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নোমান মাহমুদকে এই জোটের প্রথম মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সউদী আরবের ধর্মীয় প্রধান গ্র্যান্ড মুফতি শেখ সালেহ আল-ফাওজান হুথিদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এটিকে প্রতিটি মুসলিমের দায়িত্ব বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে বাদশা সালমান এই হামলাকে পবিত্র ভূমির ওপর আঘাত বলে উল্লেখ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সীমিত সামরিক উপস্থিতির কারণে চাপে থাকা রিয়াদকে সহায়তা করতে ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্য রিফুয়েলিং সুবিধা এবং ফ্রান্স গুরুত্বপূর্ণ বন্দর রক্ষার জন্য সেনা পাঠাতে সম্মত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক ভারসাম্য বজায় রাখতে পাকিস্তান ও তুরস্ক বড় ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছে। সূত্র: আল-জাজিরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন