প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর যাতায়াত (ওভারফ্লাই) থেকে বিশাল পরিমাণ রাজস্ব আয় করেছে। গত অর্থবছরে (জুলাই থেকে জুন) বিমানবন্দরে ওভারফ্লাই ফি বাবদ মোট আয় হয়েছে ৮০৫ কোটি ১ লাখ ৬০ হাজার ৩৬৫ টাকা ২০ পয়সা।
এই তথ্য ‘রেভিনিউ আর্নড ওভারফ্লাই রিপোর্ট’ থেকে জানা গেছে, যা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, শাহজালালে নতুন এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার (এটিসি) স্থাপনের ফলে আকাশ সুরক্ষিত হয়েছে এবং ফ্লাইং ওভার চার্জ আদায়ের গতিও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অত্যাধুনিক রাডার সিস্টেম স্থাপনের কাজ শেষ হওয়ার পর থেকেই এটি মূলত অপারেশনে যায়। তবে গত ২০ এপ্রিল সাবেক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
অর্থবছর অনুযায়ী আয়ের বিশ্লেষণ: প্রতিবেদনে বিগত এক বছরের রাজস্ব আয়কে দুই ভাগে ভাগ করে দেখানো হয়েছে।
২০২৫ সালের জুলাই–ডিসেম্বর
বছরের প্রথম ছয় মাসে ওভারফ্লাই ফি বাবদ মোট আয় হয়েছে ৩৮৮ কোটি ১০ লাখ ১৫ হাজার ৪৫১ টাকা ২০ পয়সা। এর মধ্যে জুলাইয়ে আয় হয়েছে ৪৮ কোটি ১৮ লাখ ৫৪ হাজার ৬৮৫ টাকা ৩৩ পয়সা, আগস্টে ৪৪ কোটি ৭৫ লাখ ২৭ হাজার ৪৭৮ টাকা ৯৬ পয়সা, সেপ্টেম্বরে ৮৬ কোটি ৬৩ লাখ ৩৮ হাজার ৫১৭ টাকা ৬০ পয়সা, অক্টোবরে ৭৩ কোটি ৬৪ লাখ ৭৩ হাজার ৩৮৮ টাকা ৫৯ পয়সা, নভেম্বরে ৬২ কোটি ১১ লাখ ৩২ হাজার ৯৪৫ টাকা ১৪ পয়সা, ডিসেম্বরে ৭২ কোটি ৭৬ লাখ ৮৮ হাজার ৪৩৫ টাকা ৫৮ পয়সা।
২০২৬ সালের জানুয়ারি–জুন
পরবর্তীতে চলতি বছরের ছয় মাসে আয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৪১৬ কোটি ৯১ লাখ ৪৪ হাজার ৯১৪ টাকায়। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৮০ কোটি ১৬ লাখ ৫৬ হাজার ২৬৬ টাকা, ফেব্রুয়ারিতে ৬৯ কোটি ৫৮ লাখ ২৬ হাজার ২২৬ টাকা, মার্চে ৬২ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ১০৮ টাকা, এপ্রিলে ৬৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৭ হাজার ৪৭৬ টাকা, মে তে ৭০ কোটি ৪৭ লাখ ৫২ হাজার ২৫০ টাকা এবং জুনে ৬৬ কোটি ৯৮ লাখ ৬২ হাজার ৩১৮ টাকা।
এভিয়েশন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান আন্তর্জাতিক আকাশপথে দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। দেশের আকাশসীমা দিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইটের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ওভারফ্লাই ফি থেকে অর্জিত রাজস্ব দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ বলেন, ‘আমাদের নতুন এটিসি টাওয়ার চালুর পর থেকে আমাদের ফ্লাইং ওভার চার্জ আদায় বেড়েছে। এটি এই টাওয়ার স্থাপনের সফলতা।’
তিনি আরও বলেন, দেশের আকাশসীমা শতভাগ নজরদারী স্থাপন করা হয়েছে। ফলে রাডার ফাঁকি দিয়ে কোনো ফ্লাইট দেশের আকাশে প্রবেশ করতে পারবে না। এটি আমাদের জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
বেবিচকের মুখপাত্র কাওছার মাহমুদ জানান, এটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন টাওয়ার, যা ফ্লাইট নিরাপদে ওঠানামার পাশাপাশি দেশের আকাশসীমা নজরদারির আওতায় নিয়ে এসেছে। দেশের আকাশসীমায় প্রবেশকারী কোনো ফ্লাইট নজরদারির বাইরে থাকবে না। পূর্বের রাডার ও নেভিগেশন ব্যবস্থা অনেক পুরোনো ছিল। ওই ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের পুরো আকাশসীমা নজরদারির আওতায় আসতো না, বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরের অংশ। এতে বাংলাদেশ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতো।
তিনি আরও বলেন, নিয়ম অনুযায়ী, অন্য দেশের উড়োজাহাজ বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করলে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ফি নেওয়ার বিধান আছে। আকাশসীমা একবার ব্যবহারের জন্য ‘ফ্লাইং ওভার চার্জ’ নামের এই ফি বাংলাদেশ পেতো না। কিন্তু বর্তমানে এই ফি আমরা পাচ্ছি। পাশাপাশি আমাদের আকাশে শতভাগ নিজেদের কর্তৃত্ব স্থাপিত হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন