প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রাম নগরীর সদরঘাট থানায় ১০ বছর বয়সী একটি শিশুকে ধর্ষণের মামলায় মো. আকতার সর্দার (২৪) নামক একজন যুবককে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। রবিবার চট্টগ্রাম মহানগরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডিত আকতার সর্দার সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ থানার কুকড়াপর্শি এলাকার কাদের সর্দার বাড়ির মো. সাত্তার সর্দারের ছেলে।
ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ বলেন, ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামি মো. আকতার সর্দারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেছেন বিচারক। রায়ের সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। সাজা পরোয়ানা মূলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি পূর্ব মাদারবাড়ী সাহেবপাড়া এলাকার ইউনুছ মিয়া সরকারি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। শিশুর পিতা একটি জুতার কারখানায় কাজ করেন এবং মা একটি গার্মেন্টসে কর্মরত। শিশুটি পরিবারের সঙ্গে নগরের পূর্ব মাদারবাড়ী সাহেবপাড়ার নার্গিস কলোনির একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। অভিযুক্ত আকতার সর্দার প্রতিবেশী হওয়ার কারণে প্রায়ই ওই বাসায় যাতায়াত করতেন এবং শিশুটিকে বিভিন্ন জিনিসপত্র কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখাতেন।
২০২২ সালের ২ জুলাই সকালে শিশুদের বাবা-মা কর্মস্থলে যান এবং বিকেলের দিকে শিশুটি বাসায় একা ছিল। তখন অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটির কাছে যান এবং এই সুযোগে তাকে ধর্ষণ করেন। তিনি এ সময় শিশুটিকে হুমকি দেন যে, যদি মেয়েটি এই ঘটনা কাউকে জানায় তাহলে তাকে হত্যা করা হবে। ঘটনাটির পর শিশুটি ভয় এবং ভীতি কারণে কাউকে জানাতে পারেনি। পরে ৬ জুলাই বিকেলে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তার মা এই বিষয়ে জানতে পারেন। শিশুটি তখন তার মাকে জানায়, কিছুদিন আগে অভিযুক্ত ব্যক্তি বাসায় প্রবেশ করে তাকে মারধর করে এবং প্রাণে মারার হুমকি দেয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে পরীক্ষা করলে শারীরিক আঘাতের আলামত দেখতে পান। পরে স্থানীয় লোকদের জানিয়ে শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় শিশুর বাবা মনির হোসেন সদরঘাট থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ২১ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২০২৪ সালের ১৫ এপ্রিল চার্জ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন