প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশাল নগরীর কেডিসি এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানের গোপন তথ্য মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে ফাঁস হওয়ার অভিযোগে পুলিশ কনস্টেবল মো. ফারুক হোসেনকে ভবিষ্যতে কোনো মাদকবিরোধী অভিযানে দায়িত্ব না দেওয়ার দাবি তুলেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, মাদকবিরোধী অভিযান সফলভাবে পরিচালনা করতে হলে অভিযানের পরিকল্পনা, সময় এবং সংশ্লিষ্ট তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। তারা বলছেন, অতীতে তথ্য ফাঁসের অভিযোগে অভিযুক্ত কোনো সদস্যকে এ ধরনের সংবেদনশীল অভিযানে দায়িত্ব দিলে অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে বরিশাল নগরীর কেডিসি আব্দুর রাজ্জাক কলোনি এলাকায় কোতোয়ালি মডেল থানা ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সমন্বয়ে একটি মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের পূর্বে গোপন তথ্য মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ডিবিতে কর্মরত কনস্টেবল মো. ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে।
অভিযোগের পর প্রাথমিক পর্যায়ে বিষয়টির তদন্ত করা হয় এবং পরে তাকে ক্লোজড করে বরিশাল পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে কনস্টেবল ফারুক হোসেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কাউনিয়া থানায় পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এদিকে, অতীতে ওঠা তথ্য ফাঁসের অভিযোগের বিষয়টি সামনে এনে স্থানীয় সচেতন মহল নতুন করে দাবি করেছেন যে তাকে মাদকবিরোধী অভিযানে সম্পৃক্ত না করা উচিত। তাদের আশঙ্কা, অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গোপন তথ্য যদি আগাম প্রকাশ হয়ে যায়, তাহলে মাদক ব্যবসায়ীরা সতর্ক হয়ে উঠতে পারে এবং এতে অভিযানের সফলতা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের অতীত ভূমিকা এবং তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তারা দাবি করেছেন, কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
এ অবস্থায় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু রায়হান সালেহ এবং উত্তর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এমদাদ হোসেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। তাদের দাবি, মাদক নির্মূল কার্যক্রমের স্বার্থে কনস্টেবল মো. ফারুক হোসেনকে অন্তত মাদকবিরোধী অভিযানের মতো সংবেদনশীল কার্যক্রম থেকে দূরে রাখা উচিত।
এ বিষয়ে কনস্টেবল মো. ফারুক হোসেনের বক্তব্য জানার জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন