প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
এক যুবক হঠাৎ করেই সম্পূর্ণ খালি গায়ে ব্যাংকে ঢুকে ম্যানেজারের কক্ষে ঢুকে তার চেয়ারে বসে বলছিলেন, "আমি এই দেশের সিও (প্রধান কর্মকর্তা), অনেক বড় অফিসার।"
এই ঘটনা মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার চৌরঙ্গী বাজার শাখার রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে (রাকাব) ঘটে।
যুবকের এই কাণ্ড দেখে হতবাক হয়ে যান ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং উপস্থিত সাধারণ গ্রাহকরা। জানা গেছে, ওই যুবকের নাম ইয়াসিন আলী। তিনি সকালে ব্যাংকের স্বাভাবিক কাজকর্ম চলাকালীন সময় আকস্মিকভাবে ব্যাংকে ঢুকে পড়ে।
এরপর তিনি শার্টবিহীন অবস্থায় ম্যানেজারের চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে চিৎকার করে বলতে থাকেন যে, এই ব্যাংকে তার কোটি কোটি টাকা জমা রয়েছে। তিনি বলছিলেন, "সেই টাকা দিয়ে আমি বাড়ি ঠিক করব, নতুন মোটরসাইকেল কিনব।"
এ সময় নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে বুঝিয়ে-শুনিয়ে চেয়ার থেকে নামানোর চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়। যুবককে ঘিরে ব্যাংকের ভেতরে তৈরি হয় চরম চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি।
এই পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবং ব্যাংকের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর '৯৯৯'-এ কল দেওয়া হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে স্থানীয় থানা পুলিশ।
পুলিশের আগমনও দমাতে পারেনি সেই যুবককে। পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরও ইয়াসিন বেশ কিছুক্ষণ ধরে অসংলগ্ন ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করতে থাকেন। তার অঙ্গভঙ্গি দেখলে মনে হচ্ছিল, যেন পুরো ব্যাংকটিই তার নিজস্ব সম্পত্তি!
অবশেষে বেশ কিছুক্ষণ চেষ্টার পর বিশেষ কৌশল ও বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে পুলিশ সদস্যরা তাকে নিয়ন্ত্রণে এনে নিজেদের হেফাজতে নিতে সক্ষম হন।
ব্যাংকের সেকেন্ড কর্মকর্তা বিপ্লবী রানী রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ইয়াসিনকে এলাকার সবাই চেনে এবং তাকে ভীষণ ভয় পায়। এর আগে সে একজনের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। যাকে তাকে যখন তখন আক্রমণ করে বসে। এজন্য ভয়ে কেউ কিছু বলার সাহস পায় না। ধারণা করা হচ্ছে, সে মানসিক বিকারগ্রস্ত।
তিনি আরো জানান, "আজ ব্যাংকের অবস্থা বেগতিক দেখে আমরা আতঙ্কিত হয়ে ৯৯৯-এ ফোন দিই। পুলিশ এসে তাকে নির্বৃত্ত করে।"
হরিপুর থানার ওসি (তদন্ত) শরিফ উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্যারকে বিষয়টি জানিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের হেফাজতে ইয়াসিনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ওই যুবক আসলে তীব্র মাদকাসক্ত নাকি পুরোপুরি মানসিক অসুস্থ— তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন