প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
উত্তর আফ্রিকার ছোট্ট ভূখণ্ড সিউটায় সম্প্রতি প্রবেশ করা শত শত অভিবাসী রবিবার বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন।
মরক্কোয় ফেরত না পাঠিয়ে স্পেনে আশ্রয় দেওয়ার দাবিতে তাঁরা একটি জনপ্রিয় সৈকতে এই বিক্ষোভ করেন।
দুই সপ্তাহ আগে মরক্কো সীমান্ত পেরিয়ে প্রায় ৭২ হাজার মানুষ ৮০ হাজার জনসংখ্যার এই ছোট্ট শহরে ঢুকে পড়ে।
পরবর্তী সময়ে বেশির ভাগই স্বেচ্ছায় ফিরে গেলেও এখনো সেখানে ৫ থেকে ৮ হাজার অভিবাসী রয়ে গেছেন। শহরের ধারণক্ষমতা কম হওয়ায় এই অভিবাসীরা এখন এল ট্রাম্পোলিন সৈকত বা শহরের উপকণ্ঠে অত্যন্ত মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।
তাদের লক্ষ্য হচ্ছে—যেকোনোভাবে ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে পৌঁছানো।
মরক্কোর তেতুয়ান থেকে আসা আইয়ুব এলারউদ বলেন, "আমরা সমুদ্রের তীরে ঠান্ডা আর দুর্গন্ধের মধ্যে ঘুমাচ্ছি। পুলিশ আমাদের শহরের কেন্দ্রে যেতে দিচ্ছে না।" বিক্ষোভকারীদের হাতে স্পেনের পতাকা এবং ‘আমরা মরক্কো ফিরে যেতে চাই না’, ‘আমরাও মানুষ’-এর মতো ব্যানার ছিল।
তারা ‘আমরা ক্লান্ত’, ‘আমরা সমাধান চাই’ স্লোগান দেন। সৈকতের পাথুরে অংশে কাউকে কাপড় ধুতে আবার কাউকে বাঁশ দিয়ে মাছ ধরতেও দেখা যায়।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফের্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা জানিয়েছিলেন, বেআইনিভাবে প্রবেশ করা অভিবাসীদের স্পেনে থাকার বা আইনি বৈধতা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
তবে চরম ঝুঁকিপূর্ণ কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হতে পারে।
এদিকে সিউটার চিকিৎসাসেবা চরম সংকটে পড়েছে। মেডিকেল বোর্ডের প্রধান এনরিক রোভিরাল্টা জানান, চিকিৎসাকর্মীরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন।
অভিবাসীদের মধ্যে সংক্রামক ডায়রিয়া, চুলকানি এবং মারামারির কারণে জখমের ঘটনা বাড়ছে। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনিকা গার্সিয়া চিকিৎসাব্যবস্থা ভেঙে পড়ার কথা অস্বীকার করলেও চাপের কথা স্বীকার করেছেন।
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মরক্কোর অভিবাসীরা জানান, দেশে কাজের পরিবেশ ভালো না হওয়ায় এবং কম বেতনের কারণে বাধ্য হয়ে তারা এসেছেন।
৩৯ বছর বয়সী মোহাম্মদ উয়ানজার বলেন, "স্পেনের মাটিতে পা রেখেই মনে হলো নতুন জন্ম হলো। আমি মরতে রাজি, কিন্তু মরক্কো ফিরব না।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন