প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ন্যাটো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ‘ভেতর থেকে ধ্বংস’ করতে গোপন ছক কষছে রাশিয়া। এই কাজের নির্দেশ দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, যা রুশ সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে দেওয়া হয়েছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুসারে, ক্রেমলিনের এক গোপন বৈঠক থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরের ওই বৈঠক সম্পর্কে অবগত থাকা দুই দেশের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, রাশিয়া একটি দ্বিমুখী কৌশল গ্রহণ করেছে। তাদের পরিকল্পনা হলো—ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা যাচাই করা এবং সেই সঙ্গে মলদোভার রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করা। মার্কিন গোয়েন্দাদের ধারণা, চলতি বছরের শরৎকালেই ন্যাটো এই সংকটের মুখোমুখি হতে পারে। এই সময়ে সাইবার হামলা, অবকাঠামোতে নাশকতা এবং ন্যাটোর পূর্ব সীমান্তে অজ্ঞাত সশস্ত্র গোষ্ঠীর অনুপ্রবেশের মতো অনেক ঘটনা ঘটতে পারে। পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, পুতিনের প্রধান লক্ষ্য ইউক্রেন দখল করা হলেও দ্বিতীয় লক্ষ্য হলো মলদোভা নিয়ন্ত্রণ। মলদোভা-র মাধ্যমে ইউরোপকে অস্থিতিশীল করতে চায় মস্কো।
মস্কোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রুশ-নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে দক্ষিণ ইউক্রেন দখল করে মলদোভা পর্যন্ত একটি সরাসরি করিডোর তৈরির কথা ভাবা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ন্যাটোয় অন্তর্ভুক্ত রোমানিয়া এবং ইউক্রেনের মাঝে থাকা ২৪ লাখ মানুষের দেশ মলদোভা পুরোপুরি অরক্ষিত হয়ে পড়বে। এ ছাড়া, মলদোভা বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চল ট্রান্সনিস্ট্রিয়ায় রুশ সেনাদের পূর্বে থেকেই উপস্থিতি রয়েছে, যেখান থেকে রাজধানী চিসিনাউ খুবই অদূরে।
শুধু সামরিক আক্রমণই নয়, পরোক্ষ হামলায় মলদোভা কতটা নাজুক, তা সম্প্রতি দেখা গেছে। গেল মার্চে ইউক্রেনের জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে রুশ হামলার কারণে দনিস্টার নদীতে তেল ছড়িয়ে পড়ায় মলদোভা সরকারের তৃতীয় বৃহত্তম শহরের পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীকালে ড্রোন হামলায় মলদোভায় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী লাইনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জার্মানির প্রতিরক্ষাপ্রধান জেনারেল কারস্টেন ব্রেউয়ার জানান, ইউরোপের পূর্ব প্রান্তে প্রতিদিনই এ ধরনের ‘হাইব্রিড হামলা’ চলমান রয়েছে। এই কারণে পোল্যান্ড এবং বাল্টিক দেশগুলো তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা জোরদার করেছে। বাল্টিক অঞ্চলের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, এসব হামলার মূল উদ্দেশ্য ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করা নয়, বরং ন্যাটোর মধ্যে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা তৈরি করা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন