শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:২৩ পি.এম
ইরান যুদ্ধের তথ্য ফাঁসের ঘটনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘরের শত্রু খুঁজছেন। তিনি মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
মার্কিন অস্ত্রের মজুতের তথ্য ফাঁসের ঘটনায় আগস্ট মাসে ৫০ জন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তার পলিগ্রাফ পরীক্ষা (মিথ্যা শনাক্তকারী পরীক্ষা) পরিচালনা করেছেন মার্কিন তদন্তকারীরা। এ তথ্য জানায় আনাদোলু।
শুক্রবার একাধিক মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তদন্তের আওতায় প্রেসিডেন্টকে পরামর্শ দেওয়া জ্যেষ্ঠ সামরিক নেতাদের নিয়ে গঠিত জয়েন্ট স্টাফের কর্মকর্তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। মূলত ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতি সংক্রান্ত তথ্য ফাঁসের বিষয়টি তদন্তের কেন্দ্রবিন্দু ছিল।
অন্যদিকে, সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পলিগ্রাফ পরীক্ষায় এফবিআই জড়িত ছিল না। সামরিক বাহিনী তাদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ তদন্তকারীদের মাধ্যমে এই পরীক্ষা সম্পন্ন করে। তবে সব জ্যেষ্ঠ সামরিক নেতার পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনও এই তদন্তের আওতার বাইরে ছিলেন।
জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তথ্য ফাঁসের ঘটনায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ।
সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, গণমাধ্যমের কাছে তথ্য ফাঁস করেছেন কি না—এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে পলিগ্রাফ পরীক্ষায় কোনো কর্মকর্তা ব্যর্থ হননি। তদন্তকারীরা উদ্বিগ্ন ছিলেন যে, সরকারের কোনো কর্মকর্তা বিদেশি গুপ্তচর হিসেবে কাজ করছেন কি না। কারণ, নির্দিষ্ট অস্ত্রের মজুতসংক্রান্ত তথ্যের প্রবেশাধিকার ছিল অত্যন্ত সীমিত।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল বলেন, সংস্থাটি ‘অভ্যন্তরীণ কর্মী বা তদন্তসংক্রান্ত বিষয়ে মন্তব্য করে না’। তবে শ্রেণিবদ্ধ বা গোপনীয় তথ্য ফাঁসের বিষয়টি তারা ‘অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেয় এবং সে অনুযায়ী তদন্ত করে।’
ট্রাম্প মার্কিন সামরিক বাহিনীর কৌশলগত অস্ত্রের ঘাটতির খবর অস্বীকার করে বলেছেন, সামরিক বাহিনীর কাছে ‘বিপুল পরিমাণ’ অস্ত্র রয়েছে। তিনি তথ্য ফাঁসকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহমূলক বক্তব্য’ এবং ‘ভুয়া খবর’ হিসেবে অভিহিত করেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন যে, দায়ীদের ‘খুঁজে বের করা হবে’ এবং তাদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।
পলিগ্রাফ পরীক্ষা নেওয়ার এই উদ্যোগের আগে বেশ কিছু অননুমোদিত তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটেছিল। এর মধ্যে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর অর্ডারস বুকের একটি অংশ ফাঁস হওয়ার ঘটনাও রয়েছে।
ওই নথিতে দেখা যায়, চার তারকা পদমর্যাদার ছয়জন সামরিক নেতা ইরানের বিরুদ্ধে বড় পরিসরের সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিন্নমত প্রকাশ করেছিলেন। তারা সতর্ক করে বলেছিলেন, যুদ্ধটি ‘টেকসই নয়’ এবং এটি বিশ্বব্যাপী সামরিক প্রস্তুতি দুর্বল করছে।
পারনেল এই তথ্য ফাঁসের ঘটনাকে ‘অপরাধ’ এবং ‘বাহিনীর প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে নিন্দা করেন। তিনি আরও বলেন, এসব তথ্য নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বড় একটি অংশই ভুল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুবি ছাত্রশক্তির প্রথম আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নিলয় বড়ুয়া এবং সদস্য সচিবের দায়িত্বে থাকবেন সৈয়দা নাজিফা নাফিল। ছবি: আরটিভি
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) জাতীয় ছাত্রশক্তির ১০ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি প্রথমবারের মতো ঘোষণা করা হয়েছে। এতে আহ্বায়ক হিসেবে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী নিলয় বড়ুয়া এবং সদস্য সচিব হিসেবে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী সৈয়দা নাজিফা নাফিলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি আহসান লাবিব ও সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদারের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।
কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আলামিন মজুমদার। সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন ওমর ফারুক। এছাড়া যুগ্ম সদস্য সচিব (দপ্তর) হিসেবে মোহাম্মদ ওসমান, যুগ্ম সদস্য সচিব (মিডিয়া) হিসেবে জুবায়ের আজম খান এবং মূখ্য সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন আরিফুল ইসলাম রনি।
এছাড়া কমিটির সদস্য হিসেবে নাঈমুর রহমান, বিল্লাল হোসেন ও জি. এম. তৈয়ুবুর ইসলাম রয়েছেন।
নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য সচিব সৈয়দা নাজিফা নাফিল বলেন, ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য সচিব হিসেবে আমাকে নির্বাচিত করায় আমি কৃতজ্ঞ। আমার কাছে এটি শুধু একটি পদ নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। শিক্ষার্থীবান্ধব কার্যক্রম পরিচালনাই হবে আমার মূল লক্ষ্য। এ দায়িত্ব পালনে আমি সকলের সহযোগিতা ও পাশে থাকার প্রত্যাশা করি।’
আহ্বায়ক নিলয় বড়ুয়া বলেন, ‘জাতীয় ছাত্রশক্তির কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। যারা আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। শিক্ষার্থীদের অধিকার ও কল্যাণে কাজ করা, বৈষম্যহীন ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো নিয়ে সোচ্চার থাকাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তিকে আরও শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’
বিজ্ঞপ্তিতে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঘোষিত এ আহ্বায়ক কমিটি আগামী এক বছর দায়িত্ব পালন করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় পুলিশ দেখে দৌড়ে পালানোর সময় পড়ে গিয়ে মো. সোহাগ চৌধুরী (৩৫) নামে এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হাজী ঈদ্রিস মিয়া বাজার ওরফে নবীর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মো. সোহাগ চৌধুরী একই ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের চর উরিয়া গ্রামের নুর নবী চৌধুরীর ছেলে। তিনি একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চরজব্বর থানা পুলিশের একটি দল ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি সোহাগকে গ্রেপ্তারের জন্য ঈদ্রিস মিয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে পড়ে গিয়ে আহত হন। পরে তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানায়, নিহত সোহাগ চৌধুরীর বিরুদ্ধে চরজব্বর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৮৫, ৩২৩ ও ৫০৬(২) ধারায় অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ২০১৮ সালে দায়ের করা চরজব্বর থানার আরও একটি মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩৪১, ৩২৩, ৩০৭, ৩২৬, ৩৭৯, ৪২৭ ও ৩২৫ ধারাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি সোহাগ চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালায়। পুলিশকে মামলার বাদীর সাথে কথা বলতে দেখে তিনি দৌড়ে পালানোর সময় পড়ে গিয়ে আহত হন। পরে তার মৃত্যু হয় বলে শুনেছি। মরদেহ নিহতের স্বজনেরা নিয়ে যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বিভিন্ন অপরাধ দমন ও জনস্বার্থে আইন বাস্তবায়নে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে উপজেলা প্রশাসন। এর ধারাবাহিকতায় গত আগস্ট মাসে ২৪টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৭৩টি মামলায় ১২ লাখ ৯ হাজার ৪৫০ টাকা অর্থদণ্ড এবং ৪৯ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, আগস্টের প্রথমার্ধে ১২টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৩২টি মামলায় ৭ লাখ ১৭ হাজার ১০০ টাকা জরিমানা এবং ২২ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দ্বিতীয়ার্ধে ১২টি ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৪১টি মামলায় ৪ লাখ ৯২ হাজার ৩৫০ টাকা জরিমানা এবং ২৭ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অভিযানগুলোতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, বাল্যবিবাহ নিরোধ, অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ, জুয়া প্রতিরোধ, দণ্ডবিধি এবং ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপনসহ বিভিন্ন আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর মধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৪৮টি মামলায় ৪৮ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া আগস্ট মাসে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পৃথকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দুটি মামলায় ৮০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করেন।
কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আক্তার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জনস্বার্থে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলমান থাকবে।’
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক তরুণ ইউসুফ বলেন, কালিহাতী উপজেলা প্রশাসনের এসব উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক।
মাদক সমাজে ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে গেছে। অপরাধ ও মাদক দমনে পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ