প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক এবং ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) প্রাক্তন সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলী এবং তাঁর স্ত্রী দোনা গাঙ্গুলীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। ধারাবাহিক চিঠির মাধ্যমে প্রতিটি বার্তা তাদের কাছে পৌঁছানো হয়েছে। সোমবার কলকাতা পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং জানান, গত কয়েক মাস ধরে অব্যাহতভাবে আসা হুমকিচিঠির পর সম্প্রতি সৌরভ ও তার স্ত্রীকে সরাসরি হত্যার হুমকি প্রদান করা হয়।
এই ঘটনার বিষয়ে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া (পিটিআই)-এর বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, পুলিশ চিঠিগুলোর উৎস ও প্রেরকের পরিচয় শনাক্ত করতে ইতিমধ্যেই ব্যাপক তদন্ত শুরু করেছে। বর্তমানে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি)-এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করা সৌরভ গাঙ্গুলীর কার্যালয়ে সোমবার সবশেষ হুমকিচিঠিটি পৌঁছানোর পরপরই দক্ষিণ কলকাতার ঠাকুরপুকুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
পুলিশ সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাস ধরে সাবেক এই ভারতীয় অধিনায়কের নামে এমন একাধিক হুমকিচিঠি এসে পৌঁছালেও শুরুতে বিষয়টি খুব গুরুত্ব পাওয়া যায়নি। তবে সোমবার সৌরভের কার্যালয়ে পাওয়া দুটি চিঠিতে চরমতার একটি নতুন মোড় দেখা গেছে। ওই চিঠিতে সৌরভ ও দোনা গাঙ্গুলীকে সরাসরি প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং তাদের ঘনিষ্ঠজনদের ক্ষতি করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
উদ্ভূত এই অবস্থায় ভারতের সাবেক ক্রিকেট তারকা ও অধিনায়কের ম্যানেজারের মাধ্যমে ঠাকুরপুকুর থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়েছে। খবর পাওয়ার পর কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দারা তৎপর হয়ে পুরো বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছেন। চিঠিগুলোর বিষয়বস্তু ও প্রেরকের আসল উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গুরুতর এই ঘটনাটি নিশ্চিত করে এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়েছে এবং পুলিশ তদন্তে নেমেছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রেরক এবং মূল অভিযুক্তদের দ্রুত শনাক্ত করতে চিঠির বিষয়বস্তু, প্রাপ্তির মাধ্যম ও কুরিয়ার ট্রেইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, চিঠিগুলো কোনো নিবন্ধিত কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে এবং এটি সম্ভবত উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বেলঘড়িয়া এলাকার এক ব্যক্তির কাছ থেকে এসেছে।
অভিযুক্তকে চিহ্নিত করার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট কুরিয়ার কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। প্রেরকের কথিত সিম কার্ডটির গতিবিধি নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে উক্ত পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, তারা কুরিয়ার সার্ভিসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে একটি সন্দেহভাজন মোবাইল নম্বর চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছেন, যার অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। সবকটি হুমকিচিঠি একই ব্যক্তি পাঠিয়েছে কিনা বা এর পেছনে অন্য কোনো দল বা মতলব রয়েছে, তা নিশ্চিত করতে কলকাতা পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
সূত্র: এনডিটিভি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন