প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে মালয়েশিয়ার রপ্তানি ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে রেকর্ড প্রায় ৩৮৪.৪ বিলিয়ন ডলারে (১.৫৭ ট্রিলিয়ন রিঙ্গিত) পৌঁছেছে। বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক পণ্য রপ্তানির অসাধারণ প্রভাবের কারণে দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্যে এই উল্লম্ফন ঘটেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ভিএন এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
মালয়েশিয়া এক্সটার্নাল ট্রেড ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন (ম্যাট্রাড) এর তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে দেশটির আমদানি ২৫.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৩২৮ বিলিয়ন ডলারে (১.৩৪ ট্রিলিয়ন রিঙ্গিত) দাঁড়িয়েছে। এর ফলে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ৩০.১ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৭১২.৬ বিলিয়ন ডলারে (২.৯১ ট্রিলিয়ন রিঙ্গিত) পৌঁছেছে। মাথাপিছু জিডিপির দিক থেকে সিঙ্গাপুর ও ব্রুনাইয়ের পর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তৃতীয় শীর্ষ ধনী দেশ মালয়েশিয়া এই ৯ মাসে প্রায় ৫৬.৮৯ বিলিয়ন ডলারের (২৩ হাজার ২৩৮ কোটি রিঙ্গিত) বাণিজ্য উদ্বৃত্ত বজায় রেখেছে।
ম্যাট্রাড জানিয়েছে, রপ্তানি প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বরাবরের মতোই শীর্ষে ছিল বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক পণ্যসামগ্রী। বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসারের কারণে এসব পণ্যের চাহিদা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় খাতটির রপ্তানি মূল্য প্রায় ৬২.১৪ বিলিয়ন ডলার (২৫ হাজার ৩৮৮ কোটি রিঙ্গিত) বেড়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য, অপটিক্যাল ও বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ এবং এলএনজি।
পাম অয়েলভিত্তিক পণ্য, বিশেষ করে ওলিওকেমিক্যালস দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে। পাশাপাশি মালয়েশিয়ার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণে উৎপাদিত পণ্য—যেমন অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ, ওষুধ, ধাতব আসবাবপত্র এবং মহাকাশ ও বিমানশিল্পের সরঞ্জাম ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।
ম্যাট্রাডের মহাপরিচালক ইনদেরা আবু বকর ইউসুফ মন্তব্য করেন, এই ফলাফল বিশ্বঅর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও মালয়েশিয়ার রপ্তানিকারক এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) সক্ষমতা ও স্থিতিস্থাপকতা প্রমাণ করে।
তিনি আরও বলেন, দেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাময় নতুন বাজারগুলোতে প্রবেশ করতে সহায়তার ক্ষেত্রে নেওয়া সক্রিয় পদক্ষেপগুলো বিশ্ববাজারের বাধা ও ঝুঁকিগুলোকে বাস্তব ব্যবসায়িক সুযোগে রূপান্তর করতে সাহায্য করেছে।
তথ্য অনুযায়ী, আফ্রিকার দেশগুলোর পাশাপাশি মধ্য এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার মতো অপ্রচলিত বাজারগুলোতে দেশটির রপ্তানি ২১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৩.৩৬ বিলিয়ন ডলারে (১৩ হাজার ৬৩৬ কোটি রিঙ্গিত) পৌঁছেছে। উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী বাজারগুলোর মধ্যে রয়েছে নামিবিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, লিবিয়া, অ্যাঙ্গোলা ও ব্রাজিল।
মুক্তবাণিজ্য চুক্তিভুক্ত (এফটিএ) ২৪টি দেশ মালয়েশিয়ার রপ্তানির প্রধান গন্তব্য হিসেবে বজায় রয়েছে এবং এর মধ্যে ২১টিতেই রপ্তানি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটির মোট রপ্তানির প্রায় ২৪১.৫ বিলিয়ন ডলার (৯৮৬.৩৮ বিলিয়ন রিঙ্গিত) বা ৬২.৮ শতাংশই এসেছে এফটিএভুক্ত দেশগুলো থেকে, যা আগের তুলনায় ২৫.৮ শতাংশ বেশি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন