প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছোট্ট গুজব কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে স্পেনের উত্তর আফ্রিকার সিউটার ছিটমহলে ঘটে যাওয়া এক ঘটনায়। গত মাসে মরক্কো থেকে সাঁতরে স্পেনে প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে পানিতে ডুবে অন্তত ৯০ জন অভিবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই প্রাণঘাতী সংকটের পেছনে মূল কারণ হিসেবে রয়েছে ফেসবুক, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে পড়া একটি ভুয়া খবর।
গুজবটি ছিল যে, সমুদ্রপথে সাঁতরে সিউটায় পৌঁছালে স্পেন সরকার নিয়ম শিথিল করে সকলকে থাকার অনুমতি দেবে। গত ৩০ জুলাইয়ের গণ-অনুপ্রবেশের দুদিন আগে, স্থানীয় পত্রিকা ‘এল ফারো ডি সিউটা’ ভেজা পোশাকে দুই তরুণীর হাসিমুখের একটি ভিডিও প্রকাশ করে। ভিডিওটি আরবি ভাষায় ছিল এবং এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর অভিবাসীরা ধরে নেন যে, সাঁতরে স্পেনে ঢুকে বাধাহীনভাবে ঘোরাফেরা করা তাদের জন্য খুবই সহজ হবে।
স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের একটি পুরোনো রায়কে বিকৃত করে এই গুজব ছড়ানো হয়েছিল। রায়ে উল্লেখ করা হয়েছিল, সমুদ্রপথে আসা অভিবাসীদের সরাসরি বিতাড়িত না করে আইনি পর্যালোচনার সুযোগ দিতে হবে। কিন্তু এই বিষয়টিকে ‘স্থায়ীভাবে থাকার অধিকার’ হিসেবে প্রচার করা হয়। বিশেষজ্ঞ জর্গেন কার্লিংয়ের মতে, আদালতের এই আংশিক সত্যতাই গুজবটিকে মানুষের কাছে আরও বেশি বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে।
মানবপাচারকারী চক্রগুলো এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অভিবাসীদের আকৃষ্ট করতে নামল। ‘দ্য পাথ টু সিউটা’ নামের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাঁতারের ইমোজি দিয়ে ম্যাপ এবং বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছিল। মরক্কোর এক মানবাধিকার কর্মকর্তার ১৩ লাখ অনুসারীর অ্যাকাউন্টসহ অন্তত ২১৫টি ফেসবুক পেজ থেকে একই ভুয়া দাবি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
ইনস্টাগ্রামের এসব ভিডিও দেখেই ১২ কিলোমিটার সাঁতরে সিউটায় পৌঁছান আশরাফ বেন আহমেদ। তিনবার ব্যর্থ হওয়া এই তরুণ বলেন, ‘ভিডিওতে বলা হয়েছিল, তারা সাহায্য করবে, ফেরত পাঠাবে না।’
এদিকে, মেটা জানিয়েছে, তারা ভুয়া পোস্টগুলো মুছে ফেলছে। তবে গবেষকরা বলেছেন, এখনো সক্রিয় থাকা অনেক পেজ এখনও নিখোঁজদের আত্মীয়-স্বজনরা তাদের আপনজনদের খুঁজে বের করতে ব্যবহার করছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন