প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দামেস্কের ক্ষমতার পালাবদলের পর সিরিয়া ও রাশিয়ার মধ্যকার সম্পর্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়নি বরং তা একটি নতুন বাস্তবতার ভিত্তিতে আরও সুসংহত হচ্ছে।
বাশার আল-আসাদের পতনের পর অনেকে ভেবেছিলেন যে সিরিয়ায় মস্কোর প্রভাব চিরতরে শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু দীর্ঘ দেড় বছরের বেশি সময় ধরে চলা কূটনৈতিক আলোচনা ও সমঝোতার পর চলতি আগস্ট মাসের গোড়ার দিকে, দুই দেশ একটি নতুন সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছে। এর মাধ্যমে তার্তুস ও হেমেইমিম সামরিক ঘাঁটির ভবিষ্যৎ রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা প্রমাণ করে যে, দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক ধ্বংসের পরিবর্তে মূলত এক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
দামেস্কের নতুন নীতিনির্ধারকরা আদর্শগত বা গতানুগতিক রাজনৈতিক আনুগত্যের চেয়ে বাস্তবভিত্তিক প্রয়োজনীয়তাকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে সিরিয়ার অর্থনীতি বর্তমানে মারাত্মক সংকটের মুখে। অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি, তীব্র জ্বালানি সংকট এবং খাদ্যের উচ্চ মূল্যস্ফীতির মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সিরিয়া এখন এমন অংশীদারদের খুঁজছে যারা সরাসরি বাস্তব সুবিধা দিতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তুরস্ক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি সিরিয়া তাই মস্কোর সঙ্গে পুরোনো সম্পর্ক বজায় রাখার নীতি গ্রহণ করেছে। কারণ কিয়েভ বা পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে বড় ধরনের সাহায্য পাওয়ার প্রক্রিয়ায় সময় লাগলেও, রাশিয়ার সরবরাহ করা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও জ্বালানি তাৎক্ষণিকভাবে দেশের অভ্যন্তরীণ স্থায়িত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করছে।
বিশেষ করে খাদ্য নিরাপত্তা এবং জ্বালানি খাতের ওপর রাশিয়ার গভীর প্রভাব রয়েছে। সিরীয় কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২০২৬ মৌসুমে দেশটিতে আমদানিকৃত গমের প্রায় পঁচাশি শতাংশই এসেছে রাশিয়া থেকে, যার পরিমাণ প্রায় ২৯ লাখ টন। যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় রুটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের মৌলিক চাহিদা হওয়ায় এই খাদ্যপণ্য সরবরাহ দেশটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও অত্যন্ত জরুরি।
এছাড়া, জ্বালানি খাতেও রাশিয়ার অবদান ব্যাপক। গত বছর সিরিয়ায় প্রচুর পরিমাণে তেল সরবরাহ করেছে রাশিয়া এবং চলতি বছরের প্রথম মাসগুলোতেও এই সরবরাহের পরিমাণ বেশ উর্ধ্বমুখী ছিল। দেশের ভেতরের উৎপাদন ক্ষমতা তলানিতে ঠেকে থাকায় যাতায়াত ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং কলকারখানা সচল রাখতে এই আমদানিকৃত জ্বালানির কোনো বিকল্প নেই।
সামরিক ক্ষেত্রেও পুরোনো চুক্তি সংশোধন করে নতুন পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। তার্তুস ও হেমেইমিমের বেসামরিক স্থাপনাগুলোর নিয়ন্ত্রণ সিরিয়ার সরকারের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং সামরিক সাইটগুলোকে যৌথ প্রশিক্ষণ ও পেশাগত উন্নয়ন কেন্দ্র হিসেবে রূপান্তর করা হচ্ছে। এর ফলে দামেস্ক যেমন নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে পারছে, তেমনি সিরিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর পুনর্গঠন ও আধুনিকায়নে রাশিয়ার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও সামরিক কারিগরি সহায়তা অক্ষুণ্ণ থাকছে।
এছাড়া, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত সম্পর্ক জোরদার করতে দামেস্কে রুশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে। সিরিয়ার নতুন নেতৃত্ব পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ালেও, মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন না করে বরং একটি ভারসাম্যপূর্ণ বৈদেশিক নীতি বজায় রাখছে, যা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন