প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসনের সময় ভারতের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেখানে আড়াই হাজারের বেশি চালানে কয়েক লাখ অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল’-এর নতুন প্রতিবেদনের বরাতে সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
‘মেড ইন ইন্ডিয়া: দ্য সাপ্লাই অব ওয়েপনস অ্যান্ড অ্যামিউনিশন টু ইসরায়েল’ নামক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এসব সামরিক চালান পাঠানো হয়। এই চালানে মেশিনগানের যন্ত্রাংশ, ১৫৫ মিলিমিটারের কামানের গোলা, স্কাইস্ট্রাইকার ড্রোনের বিস্ফোরক এবং সাঁজোয়া যানের যন্ত্রাংশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অ্যামনেস্টির হিসাব অনুযায়ী, এসব চালানে সাড়ে পাঁচ লাখের বেশি বিস্ফোরক অস্ত্রের যন্ত্রাংশ, প্রায় চার লাখ ছোট অস্ত্রের উপাদান এবং প্রদেয় ২৯৮টি সামরিক যানের সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সংস্থাটির গবেষকেরা আন্তর্জাতিক কাস্টমস ক্লাসিফিকেশন সিস্টেম বা ‘এইচএস কোড’ ব্যবহার করে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই তালিকা প্রস্তুত করেছেন। যদিও দ্বিমুখী ব্যবহারের অস্ত্র বা বেসামরিক কাজের সরঞ্জাম এই হিসাবের বাইরে রাখা হয়েছে। ফলে গবেষকেরা ধারণা করছেন যে বাস্তবে ভারতের সামরিক সহায়তার পরিমাণ আরও অনেক বেশি হতে পারে।
প্রতিবেদনের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে ভারতের ৯টি কোম্পানি এবং সরকারের কাছে চিঠি পাঠানো হলেও অ্যামনেস্টি কোনো জবাব পায়নি।
সংস্থাটির মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) যেখানে গাজায় গণহত্যার ঝুঁকির কথা জানিয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন, সেখানে ভারত ভান করে থাকতে পারে না। ইসরায়েলি বাহিনী যখন গাজায় অগণিত মানুষের মৃত্যু ও দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে, তখন ভারতীয় কোম্পানিগুলো অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ করে মুনাফা তৈরি করছে—এটি আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।
কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে সম্পর্ক বেশ জোরদার হয়েছে। বর্তমানে ভারত ইসরায়েলি সমরাস্ত্রের অন্যতম প্রধান ক্রেতা। অন্যদিকে, আইসিজে-তে দক্ষিণ আফ্রিকার তোলা গণহত্যা মামলায় যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পাশাপাশি ইসরায়েলের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করে এসেছে দিল্লি।
সবশেষ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্কর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ভারতের অস্ত্র রপ্তানি সম্পূর্ণভাবে জাতীয় স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি মেনেই পরিচালিত হচ্ছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে জাতীয় নিরাপত্তার যেকোনো হুমকিতে ইসরায়েল সব সময় ভারতের পাশে ছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন