প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্বকাপের শেষ ১৬-তে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলের পরপরই জাতীয় দলের অবসরের ইঙ্গিত দিয়েছেন ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার জুনিয়র এবং ফুলব্যাক দানিলো। তাদের সঙ্গে ব্রাজিলের আরও কয়েকজন নামী তারকা আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের বিদায়ের ধারে পৌঁছে গেছেন।
এবারও হেক্সার স্বপ্ন পূরণ হলো না ব্রাজিলের। রোববার (৫ জুলাই) নিউজার্সি স্টেডিয়ামে নরওয়ের আর্লিং হলান্ডের জোড়া গোলে ব্রাজিলিয়ানদের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। ৩৪ বছর বয়সী নেইমার পেলের সমান চারটি বিশ্বকাপে অংশ নেয়ার রেকর্ড স্পর্শ করেছেন এবং ৯ গোল নিয়ে বিশ্বআসরটিতে ব্রাজিলের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের মধ্যে সেরা তিনের তালিকায় উঠে এসেছেন। কিন্তু দেশের জার্সিতে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড অনেক আগেই দখলে নিয়ে থাকলেও কাঙ্ক্ষিত বিশ্বকাপ এনে দিতে পারেননি।
নেইমারের প্রথম বিশ্বকাপ ছিল ২০১৪ সালে দেশের মাটিতে। কোয়ার্টার ফাইনালে কলম্বিয়ার বিপক্ষে গুরুতর চোট পাওয়ায় তিনি সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ব্রাজিলের ঐতিহাসিক ৭-১ গোলের পরাজয়ের ম্যাচে খেলতে পারেননি। এরপর ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে ইনজুরি কাটিয়ে খেলতে হয়েছিল।
২০২২ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে তিনি অতিরিক্ত সময়ে গোল করে ব্রাজিলকে জয়ের খুব কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে প্রতিপক্ষ সমতা ফেরায়, আর টাইব্রেকারে বিদায় নিতে হয় তিতের দলকে। সেই সময় নেইমার বলেছিলেন, সেটিই হতে পারে তার বিশ্বকাপের 'লাস্ট ড্যান্স'।
অন্যদিকে, দানিলো টানা তিনটি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে শুরুতে একাদশে ছিলেন না; তবে ওয়েসলির চোটের পর আবারও নিয়মিত একাদশে ফেরেন।
বয়সের কারণে আরও কিছু অভিজ্ঞ ফুটবলারের ২০৩০ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে খেলার সম্ভাবনা খুবই কম। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের আসরে ৩৯ বছর বয়সে দানি আলভেস ছিলেন ব্রাজিলের ইতিহাসে বিশ্বকাপে ডাক পাওয়া সবচেয়ে বয়স্ক ফুটবলার।
যারা ক্যারিয়ারের সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ খেলেছেন:
অ্যালিসন বেকার (বিশ্বকাপ: ২০১৮, ২০২২, ২০২৬): এই প্রজন্মের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক可能ত ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচটি খেলেছেন। আগামী বিশ্বকাপ আসতে আসতে তার বয়স হবে ৩৭ বছর। তার চেয়ে বেশি বয়সে চলতি বিশ্বকাপে খেলেছেন মানুয়েল ন্যুয়ের, গুইলর্মে ওচোয়ারা। তবে ব্রাজিলিয়ানদের ক্যারিয়ার সাধারণত এতো দীর্ঘ হয় না। সুতরাং বলা যায়, আর কখনও বিশ্বকাপে দেখা যাবে না লিভারপুলের এই কিংবদন্তিকে।
ওয়েভারটন (বিশ্বকাপ: ২০২২, ২০২৬): চলতি বিশ্বকাপে তিনি ব্রাজিলের তৃতীয় গোলরক্ষক ছিলেন। আগামী বিশ্বকাপ আসতে আসতে তার বয়স হবে ৪২ বছর। সেই সময় পর্যন্ত খেলা চালিয়ে যাওয়া বেশ কঠিন।
মার্কুনিয়োস (বিশ্বকাপ: ২০১৮, ২০২২, ২০২৬): পিএসজির হয়ে টানা দুটি মৌসুম কাটিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে আসেন। কিন্তু ক্লাবের সাফল্য জাতীয় দলের জার্সিতে আর দেখাতে পারেননি। আগামী বিশ্বকাপে তার বয়স দাঁড়াবে ৩৬ বছর। অর্থাৎ পিএসজির অধিনায়ককে আগামী বিশ্বকাপে দেখার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।
দানিলো (বিশ্বকাপ: ২০১৮, ২০২২, ২০২৬): ব্রাজিলের হয়ে তিনটি বিশ্বকাপ খেলা ফুলব্যাক সম্ভবত জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের শেষ ম্যাচটিও খেলেছেন। আগামী বিশ্বকাপ আসতে আসতে তার বয়স দাঁড়াবে ৩৮ বছর।
অ্যালেক্স সান্দ্রো (বিশ্বকাপ: ২০২২, ২০২৬): আগামী বিশ্বকাপে ৩৯ বছর বয়সে সান্দ্রোর অংশগ্রহণের সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কোটায়।
ক্যাসেমিরো (বিশ্বকাপ: ২০১৮, ২০২২, ২০২৬): চলতি বিশ্বকাপে নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জার্সিতে দুর্দান্ত মৌসুম কাটানো এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের কাছে কোচ কার্লো আনচেলত্তির অনেক প্রত্যাশা ছিল, কিন্তু তা পূরণ হয়নি। মাঠে তার শ্লথ গতি ভুগিয়েছে ব্রাজিলকে, তাই আগামী বিশ্বকাপে তার খেলার সম্ভাবনা প্রায় নেই।
ফ্যাবিনিয়ো: ক্যাসেমিরোর মতো লিভারপুলের এই সাবেক মিডফিল্ডারও সম্ভবত এটি ছিল তার শেষ বিশ্বকাপ। আগামী বিশ্বকাপ আসতে আসতে তার বয়স দাঁড়াবে ৩৬ বছর।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন