প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন ও মানহানির মামলায় ক্ষতিপূরণের অর্থ লেখক ও সাবেক ম্যাগাজিন কলামিস্ট ই. জিন ক্যারল হাতে পেয়েছেন। মোট ৫৬ লাখ ২৫ হাজার ৫ ডলার ৪৮ সেন্ট সুদসহ তার আইনজীবীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রায় তিন বছর আগে জুরির দেওয়া রায়ের পর অবশেষে এই অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া শেষ হলো।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) আদালতের নথিতে অর্থ হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং বিচারক লুইস ক্যাপলানের নির্দেশে এ অর্থ ছাড় করা হয়। এর আগে ট্রাম্প মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে নিতে চেয়েছিলেন তবে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করেননি। ট্রাম্প পরে পুনর্বিবেচনার আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অর্থ পরিশোধ স্থগিত রাখার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সেই আবেদনেও কোনো সাড়া মেলেনি।
আদালতে দাখিল করা নথিতে ক্যারলের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই অর্থ তিনি তার অবসরজীবনের জন্য সংরক্ষণ করবেন। তবে ট্রাম্পের পুনর্বিবেচনার আবেদন চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অর্থটি একটি সুদবাহী ব্যাংক হিসাবে রাখা হবে।
তবে ট্রাম্প এখনও আইনি লড়াই থেকে সরে আসেননি। গত শুক্রবার তার আইনজীবীরা ফেডারেল আপিল আদালতের কাছে অর্থ হস্তান্তর স্থগিতের আবেদন করেছেন। তারা দাবি করেছেন, সুপ্রিম কোর্ট পুনর্বিবেচনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত অর্থ ছাড় দেওয়া উচিত নয়। আরো বলেছেন, যদি অর্থ হস্তান্তর হয়ে থাকে তবে সেটি আদালতের নিয়ন্ত্রণাধীন হিসাবে ফেরত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার আবেদনও করেছেন। যদিও জরুরি ভিত্তিতে অর্থ ছাড় স্থগিতের আবেদন আগেই আপিল আদালত খারিজ করে দিয়েছে। সর্বশেষ আবেদনের বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
বর্তমানে ৮২ বছর বয়সী ই. জিন ক্যারল পূর্ণ অর্থই পাবেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা। তারা জানান, চুক্তিভিত্তিক পারিশ্রমিকে মামলাটি পরিচালনা করলেও ক্ষতিপূরণের এই অর্থ থেকে তারা কোনো আইনগত ফি নেবেন না।
এক বিবৃতিতে ক্যারলের আইনজীবী রবার্টা ক্যাপলান মন্তব্য করেছেন, তিন বছর আগে নয় সদস্যের সর্বসম্মত জুরি ট্রাম্পকে ই. জিন ক্যারলের ওপর যৌন নির্যাতন এবং পরে তাকে মানহানির দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। আজকের ক্ষতিপূরণের অর্থ সেই রায়ের ভিত্তিতে পেয়েছেন।
ই. জিন ক্যারল ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তোলা প্রথম নারী নন। তবে তিনিই প্রথম এই অভিযোগ আদালতে পূর্ণাঙ্গ বিচারে নিয়ে যান। তিনি আদালতে সাক্ষ্যে বলেন, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি নিউইয়র্কের একটি ডিপার্টমেন্ট স্টোরে ট্রাম্প তাকে যৌন নির্যাতন করেছিলেন। প্রথম বিচারে ট্রাম্প আদালতে উপস্থিত না থাকলেও প্রকাশ্যে অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং দাবি করেন ক্যারল তার পছন্দের নারী নন এবং বই বিক্রির জন্য তিনি এসব অভিযোগ তুলেছেন। জুরি এসব বক্তব্যকে মানহানিকর বলে রায় দিয়েছিল। যৌন নির্যাতনের দায়ও প্রমাণিত হওয়ায় ক্যারলকে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরে সিএনএনের এক টাউন হল অনুষ্ঠানে তিনি আবারও ক্যারলকে কটাক্ষ করে 'পাগল' আখ্যা দেন এবং অভিযোগকে 'সম্পূর্ণ বানানো গল্প' বলে দাবি করেন। ২০১৯ সালের মানহানি মামলায় নতুন এসব মন্তব্যও যুক্ত করেন ক্যারল।
দ্বিতীয় বিচারে ট্রাম্প আদালতে হাজির হন এবং অল্প সময়ের জন্য সাক্ষ্যও দেন। ওই মামলায় জুরি রায় দেন, ২০১৯ সালে ট্রাম্পের দেওয়া বক্তব্যও মানহানিকর ছিল। এজন্য ক্যারলকে অতিরিক্ত ৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ট্রাম্প এই রায়ের বিরুদ্ধেও সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়মুক্তি সংক্রান্ত যুক্তি বিবেচনার জন্য চলতি মাসের শেষ দিকে তার আবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। সূত্র: সিএনএন
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন