প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে কাগজপত্রবিহীন খৈলবাহী একটি ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জব্দ করেছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত ৯ টার দিকে বন্দরের ৩১ নম্বর শেড ইয়ার্ড থেকে ট্রাকটি জব্দ করা হয়।
বন্দর কর্তৃপক্ষে তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, ভারতের একটি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান থেকে আমদানিকারক মেসার্স আরাফ এন্টারপ্রাইজের নামে সরিষার খৈলবাহী ভারতীয় ট্রাকটি (নম্বর: ডব্লিউবি-২৫কে-৮৪১৫) গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাতে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে কার্গো টার্মিনাল থেকে ট্রাকটি ৩৫ নম্বর শেডে পণ্য খালাসের তথ্য দেখিয়ে বের হয়।
অভিযোগ উঠেছে, ট্রাকটিতে থাকা পণ্য ৩১ নম্বর ইয়ার্ডে ঢোকার আগেই অবৈধভাবে সরিয়ে নেয়া হয়। বিকেল ৪টার দিকে, যখন ট্রাকটি বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ফলের মাঠ এলাকায় (৩১ নম্বর ইয়ার্ড) প্রবেশ করে, তখন সন্দেহ সৃষ্টি হয়। পরে বন্দর কর্তৃপক্ষ কাস্টমসকে অবহিত করলে সহকারী কমিশনার অটল গোস্বামীর উপস্থিতিতে ট্রাকটি তল্লাশি করা হয়।
তল্লাশি কালে ১৪০ বস্তা খৈল ও ৫০টি খালি বস্তা জব্দ করা হয়। পণ্যের মোট ওজন ৭ হাজার ১৫৭ কেজি, আর খৈলের নিট ওজন পাওয়া যায় ৬ হাজার ৯১৩ কেজি।
বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার অটল গোস্বামী জানালেন, ‘ঘোষণাপত্র অনুযায়ী ট্রাকটিতে ১০ টন ৯০ কেজি পণ্য থাকার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে পাওয়া গেছে ৬ হাজার ৯১৩ কেজি। ফলে ঘোষিত পরিমাণের তুলনায় ৩ হাজার ১৭৭ কেজি খৈলের ঘাটতি রয়েছে। এই বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’
এদিকে, পাচারের সাথে জড়িত চক্রটি ‘মেসার্স প্রত্যয় ইন্টারন্যাশনাল’ নামের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে কৌশল করে ব্যবহার করেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা কাস্টমস, বন্দরের কর্তৃপক্ষ ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনে লিখিতভাবে প্রতিবাদ করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী হাফিজুর রহমান হ্যাপি লিখিত আবেদনে দাবি করেছেন, তার প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে কেউ এ অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। তিনি জানিয়ে দেন, উক্ত ট্রাক বা পণ্যচালান গ্রহণে তাদের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী জড়িত ছিলেন না। প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি এবং তার প্রতিষ্ঠান যেন হয়রানি না হয় সেটাও অনুরোধ করেছেন।
বেনাপোল স্থলবন্দরের ৩১ নম্বর শেডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, ‘মিথ্যা ঘোষণায় আমদানিকৃত পণ্যচালানটি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কাস্টমসকে অবহিত করা হয়েছে। পরে সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে চালানটি জব্দ করা হয়েছে।’
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করে দিয়েছে। পাশাপাশি পাচারের সাথে কি বড় কোনো চোরাচালান চক্র জড়িত রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন