প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুদ্ধের অবসানে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা চলাকালীন ইসরাইল তেহরানের শীর্ষ আলোচক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে হত্যার পরিকল্পনা করছিল। বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে এমন ধারণা রয়েছে এবং তারা ইরানি কর্মকর্তাদের জন্য এই বিষয়ে পরোক্ষ সতর্কতা প্রদান করেছিলেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসে এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
বর্তমান এবং সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কিছু কর্মকর্তার বিশ্বাস ছিল ৮ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে ইসরাইল সম্ভবত শীর্ষ ইরানি আলোচকদের হত্যার উদ্দেশ্যে কাজ করছিল।
টাইমস জানায়, এই উদ্বেগের প্রেক্ষিতে মার্কিন কর্মকর্তারা মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তারা তেহরানকে সময়মতো জানান যে, ইসরাইল তাদের দুই প্রধান আলোচককে হত্যা করার জন্য লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে।
টাইমসের উদ্ধৃত কর্মকর্তারা এও উল্লেখ করেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি যখন যুদ্ধ শুরু হয় এবং ইসরাইল ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের বেশিরভাগ সদস্যকে নাশকতার শিকার করতে থাকে, তখন আরাঘচি ও গালিবাফ উভয়েই বৈধ লক্ষ্যবস্তু হতে পারতেন।
ইসরাইল ইরানের অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারাও হত্যা করেছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা করতে পারে। তাদের মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানি এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল খারাজি ছিলেন।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলেন, এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হওয়ার পর, আরাঘচি ও গালিবাফ যখন যুদ্ধবিরতি আলোচনায় ইরানের অবস্থান তুলে ধরতে শুরু করেছিল, তখন তাদের হত্যার যেকোনো প্রচেষ্টা সম্ভবত আলোচনাকে ব্যাহত করতো এবং নতুন করে লড়াই শুরু করে দিত।
এর আগে, গত মার্চ মাসে যুদ্ধ চলাকালীন, এক পাকিস্তানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান যে, পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেছে যেন তারা তাদের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে তুলে না ধরে। এরপর ইসরাইল আরাঘচি ও গালিবাফকে তাদের ‘হিট লিস্ট’ থেকে সরিয়ে দিয়েছিল।
সেই সময় পাকিস্তানি কর্মকর্তাটি বলেন, ইসলামাবাদ যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছিল যে, যদি এই দুইজনের কেউ বা উভয়ই মারা যায়, তাহলে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করার আর কোনো সুযোগ থাকবে না। তাছাড়া তিনি বলেন, ‘সেই জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলিদের অগ্রসর হতে বলেছে।’
টাইমস জানিয়েছে, গালিবাফ দুই বার জীবনে বেঁচে গিয়েছেন, একবার ২০২৫ সালে ইরানের সঙ্গে ইসরাইলের যুদ্ধের সময় এবং অন্যবার চলতি বছরের যুদ্ধে। উভয় ক্ষেত্রেই তাকে হামলার সময় বিধ্বস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়।
প্রতিবেদন অনুসারে, ১২ এপ্রিল মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে আলোচনার পর, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার গালিবাফ যখন ইসলামাবাদ থেকে ইরানে ফিরছিলেন, তখন তার ওপর একটি সুনির্দিষ্ট ইসরাইলি হুমকি আবারও দেখা দেয়।
টাইমস জানিয়েছে, ইরান একটি ইসরাইলি গুপ্তহত্যার চেষ্টার আশঙ্কা করেছিল এবং এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা চেয়েছিল। এর ফলে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান দিয়ে ইরানি প্রতিনিধিদলকে ইসলামাবাদ থেকে ইরান সীমান্তে এসকর্ট বা পাহারা দেওয়া হয়।
কিন্তু ফেরার পথে, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী গালিবাফের বিমানকে এমন গোয়েন্দা তথ্য জানায় যে, ইসরাইল হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে। দুজন মার্কিন কর্মকর্তা টাইমসকে জানান যে, দুটি ইসরাইলি যুদ্ধবিমান ইরাক থেকে ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিমানটি উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদে জরুরি অবতরণ করে এবং গালিবাফ ও তার প্রতিনিধি দলের অন্যান্য সদস্যরা আট ঘণ্টার সড়কপথ পরে তেহরানে ফিরে আসেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন