প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিয়ের তিন বছর পর দাবি করা যৌতুকের টাকা না পাওয়ার কারণে স্ত্রী রমা বিশ্বাস (২৫) কে গলায় নাইলনের সুতা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী মনোজিত সরকারের বিরুদ্ধে। হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি প্রথম দিকে আত্মহত্যা হিসেবে চালানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।
কিন্তু ময়নাতদন্তের রিপোর্টে হত্যার সত্যতা প্রকাশ পায়। দীর্ঘ সাত বছর বিচার প্রক্রিয়ার পর অভিযুক্ত স্বামী মনোজিত সরকারকে আদালত আমৃত্যু কারাদণ্ডের দণ্ডিত করেছেন।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে আসামিকে তিন লাখ টাকা জরিমানা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
জরিমানার পুরো টাকা আদায় করে ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদালত নির্দেশ দিয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডিত মনোজিত সরকার আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। একই মামলায় অভিযোগের সাথে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় মনোজিতের ছয় আত্মীয় বিপুল সরকার, সরজিৎ সরকার, লিটন সরকার, বিপ্লব সরকার, সবুজ সরকার এবং দীপালী সরকারকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।
মামলার নথি ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের শুরুতে মধুখালী উপজেলার জারজননগর গ্রামের রঞ্জন বিশ্বাসের মেয়ে রমা বিশ্বাসের বিয়ে হয় একই উপজেলার কলাইকান্দা গ্রামের চিত্তরঞ্জন সরকারের ছেলে মনোজিত সরকারের সাথে। তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে চার লাখ টাকা, সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণ এবং প্রায় ৫০ হাজার টাকার আসবাবপত্র প্রদান করা হয়। এরপরও বিভিন্ন সময়ে আরো এক লাখ টাকা প্রদান করা হয়। কিন্তু তাতেও মনোজিত সন্তুষ্ট হননি।
২০১৮ সালের ৫ এপ্রিল, তিনি আরো এক লাখ টাকা দাবি করেন। দাবি পূরণ না হওয়ার কারণে ২০ এপ্রিল বিকেলে স্ত্রী রমা বিশ্বাসকে গলায় নাইলনের সুতা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। ঘটনার পর তিনি মধুখালী থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেন এবং রমার পরিবারকে জানান যে, পেটের ব্যথা সহ্য করতে না পেরে রমা আত্মহত্যা করেছেন। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং শ্বাসরোধে হত্যা।
২০১৮ সালের ১০ মে রমার বাবা রঞ্জন বিশ্বাস বাদী হয়ে মনোজিত সরকার ও তার ছয় স্বজনের বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগে মধুখালী থানায় মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে, মধুখালী থানার তৎকালীন এসআই মাহাবুল করিম ২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর সাতজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
রমার বাবা রঞ্জন বিশ্বাস এজাহারে বলেন, বিয়ের পর থেকেই তার মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছিল। মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখতে প্রায় এক লাখ টাকা অতিরিক্ত দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন সময়। এরপরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। ঘটনার দিন সকালে আবারও এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে মেয়েকে হত্যা করা হয়। পরে বিষয়টি আত্মহত্যা বলেই প্রচার করার চেষ্টা করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া মন্তব্য করেন, যৌতুক এখনো সমাজে একটি ভয়াবহ ব্যাধি। তিনি উল্লেখ করেন, ‘যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন বা হত্যা করলে কেউ আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন