প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় পাঁচ বছরের একটি শিশুকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর কংস নদে ফেলে হত্যা করার ঘটনায় গ্রেফতার করা দুই তরুণ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাতে ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তনয় সাহার কাছে তারা উক্ত জবানবন্দি প্রদান করে।
স্বীকারোক্তি দেয়া দুই তরুণ হলো: ধোবাউড়া উপজেলার টাঙ্গাটি গ্রামের আরিফ মিয়া (১৯) এবং রাকিব মিয়া (২১)। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ময়মনসিংহ আদালতের পরিদর্শক পিএসএম মোস্তাছিনুর রহমান জানান, শিশুটিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এই দুজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে আদালতে হাজির করা হয়। তারা অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিলে রাতের দিকে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার এবং পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার বিকেল ৫টার সময় শিশুটি তার নিজ বাড়ির পাশে নিখোঁজ হয়ে যায়। খোঁজাখুঁজির একপ্রকারের মধ্যে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে কংস নদে তার মরদেহ ভাসতে দেখা যায় স্থানীয় লোকজনদের দ্বারা। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ বের করে আনেন। রাতে দাফনের প্রস্তুতির সময় শিশুটির শরীরে ক্ষতচিহ্ন দেখতে পেয়ে দাফন স্থগিত রেখে পুলিশকে খবর দেয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে।
পুলিশ জানায়, রোববার বিকেলে শিশুটি স্থানীয় বাজার থেকে চিপস কিনে বাড়ি ফিরছিল। পথে চার তরুণের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ ঘটে। মাগরিবের আজানের ঠিক পূর্বমুহূর্তে কদম ফুল দেয়ার কথা বলে তারা শিশুটিকে কৌশলে কংস নদের পাড়ের জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। এক ধাপে শিশুটি নিস্তেজ হয়ে পড়লে তাকে জীবিত অবস্থায় কংস নদে ফেলে দেয়া হয়। এর ফলে পানিতে ডুবে তার মৃত্যু ঘটে।
এ অভিযানের ঘটনায় সোমবার রাতে শিশুটির বাবা এক মামলা দায়ের করেন ধোবাউড়া থানায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হলেও স্থানীয় চার তরুণকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পুলিশ ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে মারুফ মিয়া (১৯), আরিফ ও রাকিবকে আটকে নেয়। পরবর্তীতে মঙ্গলবার দুপুরে ধোবাউড়া ও পূর্বধলা সীমান্ত এলাকার এক স্বজনের বাড়ি থেকে মো. সাঈম মিয়া (১৯) নামের আরেক সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়।
ময়মনসিংহের সহকারী পুলিশ সুপার (হালুয়াঘাট সার্কেল) মিজানুর রহমান জানান, আটক চারজনের মধ্যে আরিফ ও রাকিবকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছিল। বাকি দুজন– মারুফ ও সাঈমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে বুধবার (১৭ জুন) তাদেরও এই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন