প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করার উদ্দেশ্যে মালিকপক্ষের কাছ থেকে ইতোমধ্যে প্রতিনিধি তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, শ্রমিকপক্ষের তালিকা পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মজুরি বোর্ড গঠনের গেজেট প্রকাশ করা হবে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকার সিরডাপ ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শ্রমিকপক্ষ, মালিকপক্ষ এবং সরকারপক্ষের সমন্বয়ে ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদ (টিসিসি)-এর ৯৬তম সভা এবং আরএমজি বিষয়ক ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদ (আরএমজি বিষয়ক টিসিসি)-এর ২৫তম সভায় সভাপতির বক্তব্যে এই তথ্য জানান তিনি। সভায় উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার।
মন্ত্রী শ্রম অসন্তোষ ও আন্দোলন প্রসঙ্গে একটি স্পষ্ট বার্তা প্রদান করে বলেন, "আমি মালিকপক্ষকে আহ্বান জানাই যেন মাসের ৭ তারিখের মধ্যে শ্রমিকদের পাওনা মজুরি পরিশোধ করা হয়।" একই সঙ্গে তিনি আন্দোলনরত শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, "আন্দোলনের নামে পথ রোধ করে কোনোভাবেই যেন জনভোগান্তি সৃষ্টি না হয়।" তিনি সমস্যা সমাধানের জন্য মালিকপক্ষ ও শ্রমিকপক্ষের মধ্যে আলোচনা করার আহ্বান জানান।
মন্ত্রী আরো সতর্ক করে বলেন, "সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার জন্য বা অন্য কোনো অশুভ উদ্দেশ্যে যদি কেউ চেষ্টা চালায়, তবে সরকার, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধি কেউ তা মেনে নেবে না।" তিনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেন, "প্রকৃত শ্রমিক নেতৃত্বের বাইরে থেকে যারা প্ররোচনা দিচ্ছেন এবং নন-ইস্যুকে ইস্যু বানাচ্ছেন, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসুন।" তিনি বলেন, "তৃতীয় পক্ষ এসে শিল্প খাতে কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে তা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।"
সভায় বক্তব্য প্রদানকালে শ্রমিক নেতা নাজমা আক্তার গাজীপুরসহ বিভিন্ন শিল্প এলাকায় সাম্প্রতিক শ্রম অসন্তোষের ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "বকেয়া মজুরি দ্রুত পরিশোধে সরকার, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা যৌথভাবে কাজ করছেন এবং শিল্প পুলিশ ও প্রশাসনের সহায়তায় সমস্যা নিরসনের চেষ্টা চলছে।" তিনি উল্লেখ করেন, "চলতি মাসের মধ্যেই মজুরি বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।" এছাড়াও শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ, নিত্যপণ্যের দাম কমানো এবং গ্যাস-জ্বালানি সংকট সমাধানে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
আরেক শ্রমিক নেতা রাজেকুজ্জামান রতন জানান, "মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়ে টিসিসি সভায় নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে তা বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।"
তৈরি পোশাক খাতের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ-এর সহসভাপতি রেজোয়ান সেলিম গাজীপুর ও কালিয়াকৈরের চলমান আন্দোলনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পরিস্থিতির দ্রুত ও টেকসই সমাধান দাবি করেন।
বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, "শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর বিষয়ে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক।" তিনি বলেন, "মালিক ও শ্রমিকপক্ষ একই মনোভাব পোষণ করলে নতুন করে আন্দোলনের প্রয়োজন নেই।" তিনি শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান, "শিল্প কারখানার কোনো ধরনের ক্ষতি না করা এবং সরকারকে বিব্রত না করার জন্য।"
উক্ত গুরুত্বপূর্ণ সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ, বিকেএমইএ’র নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, মালিকপক্ষ ও শ্রমিকপক্ষের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধি এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন