প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফ্রান্সে নতুন করে বিক্ষোভের আশঙ্কা থাকায় সরকার পুলিশকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের এই ঘোষণা আগামী শনিবারের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয়েছে। গত সপ্তাহের শেষদিকে সহিংসতা ও লুটপাট ঠেকাতে সরকারের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করা হয়েছে।
ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু জানিয়েছেন, আগামী শনিবার নজিরবিহীন বা বিশাল আকারের নিরাপত্তা কড়াকড়ি থাকবে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ১৭ অক্টোবর প্যারিস, মার্সেই, লিওঁ এবং অন্যান্য শহরে দাঙ্গা ও লুটপাটের পর আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
পার্লামেন্টে উত্তপ্ত বিতর্কের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ জানিয়েছেন, পুলিশের পাশাপাশি সামরিক বাহিনীও মোতায়েন করা হবে। দেশের কেন্দ্রস্থল সুরক্ষিত রাখতে না পারার কারণে সরকার দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে কৌশল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বিদ্যমান সংকটকে ‘সহিংসতা ও প্রজাতন্ত্রের মধ্যে একটি বেছে নেওয়ার’ পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু। তিনি এই অস্থিরতার জন্য কট্টর বামপন্থিদের দায়ী করেছেন। অন্যদিকে, কট্টর বামপন্থিরা অভিযোগ করেছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং জনসেবার মান কমে যাওয়ায় মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, সরকার তা যথাযথভাবে বিবেচনায় নেয়নি।
সংঘর্ষের এই ভয়াবহতা এবং তা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের দৃশ্যমান অক্ষমতা পুরো ফ্রান্সকে স্তম্ভিত করেছে। আগামী বছর দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে জনমত জরিপে কট্টর ডানপন্থি ও কট্টর বামপন্থি প্রার্থীদের শক্তিশালী অবস্থান রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
গত সপ্তাহান্তের সহিংসতার পর তুলনামূলক শান্ত একটি রাত কাটিয়েছে ফ্রান্স। অস্থিরতাকবলিত কয়েকটি এলাকায় নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক কারফিউ জারি করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফিরতে সাহায্য করেছে বলে সরকার জানিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের লক্ষ্য করে জারি করা কিছু কারফিউসহ স্থানীয় পর্যায়ের এসব বিধিনিষেধ মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
লেকর্নু স্বীকার করেছেন, সপ্তাহান্তে সরকারের প্রতিক্রিয়ায় ঘাটতি ছিল। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে ব্যর্থতা, পুলিশের স্থির অবস্থানভিত্তিক মোতায়েন এবং পূর্বনির্ধারিত পুলিশ সদস্যদের ছুটি বাতিল না করার সিদ্ধান্তকে তিনি ত্রুটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজ। তিনি বলেন, ‘যা ঘটেছে, তার জন্য আমি গভীরভাবে দুঃখিত। আমি আমার অংশের দায় স্বীকার করছি’।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন