প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ফ্যাসিস্টদের বাজেট হিসেবে অভিহিত করার জন্য তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি যুক্তি দেন যে, জুলাই আন্দোলন কারোর একপক্ষের ছিল না, বরং এটি ছিল আমাদের সবার।
যারা ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে লড়াই করেন এবং জেল-জুলুম সহ্য করে আজ এই সংসদে এসেছেন, তাদের দেওয়া প্রথম বাজেটকে এমন বিশেষণে বিশেষায়িত করা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
ববি হাজ্জাজ বলেন, গতকাল একজন সংসদ সদস্য এই বাজেটকে ফ্যাসিস্টদের বাজেট বলেছেন। আমি এই শব্দচয়নের শক্ত বিরোধিতা করছি। যাঁরা ১৭ বছর রাজপথে যুদ্ধ করেছেন, যাদের নামে অসংখ্য মামলা ছিল এবং মাসের পর মাস জেলে কাটিয়েছেন— তাদের এই সাহসী ও কনফিডেন্ট বাজেটকে ছোট করা সমীচীন নয়।
জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট স্মরণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ৪ জুলাই তৎকালীন সংসদ নেতা তারেক রহমান এবং বর্তমান অর্থমন্ত্রীসহ আমরা একটি বৈঠকে বসেছিলাম। সেদিন সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে, আমরা রাজপথে কোটাবিরোধী আন্দোলনকে সব ধরনের সহযোগিতা দেব। তবে আমরা দলের নাম ব্যবহার করিনি, যাতে সরকারপক্ষ এটিকে দলীয়করণ করে দমিয়ে দেওয়ার সুযোগ না পায়। জুলাই আন্দোলনের স্পিরিটটা ছিল সম্মিলিত। এখানে নুরুল হক নুর এবং জোনায়েদ সাকি— আমরা সবাই একসঙ্গে রাজপথে ছিলাম। সেই স্পিরিট আমাদের এই মহান সংসদেও ধারণ করতে হবে।
বাজেটকে সাহসী ও কনফিডেন্ট উল্লেখ করে তিনি বলেন, পারফেক্ট বলে কিছু নেই, তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী বাজেট। এটি বাস্তবায়নের জন্য আমাদের পূর্ণ আত্মবিশ্বাস আছে।
প্রাথমিক শিক্ষা খাতের বাজেট নিয়ে ববি হাজ্জাজ জানান, এই খাতে ৪৬ হাজার ৭২৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী তাদের ৯ম বা ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার কাজ চলছে। এটি বাস্তবায়ন হলে বছরে বাড়তি প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে, যা বর্তমান বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছর আমরা একসঙ্গে কাজ করলে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা এবং দেশের চেহারা পুরোপুরি বদলে যাবে।
বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফরের সাফল্যের প্রশংসা করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং চীনের সঙ্গে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা দেশের জন্য বড় অর্জন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন