প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মেরুদণ্ডের সুস্থতা নিশ্চিত করা সম্ভব নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং ওজন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে। তারা দক্ষ জনবল, আধুনিক অস্ত্রোপচার সরঞ্জাম ও উন্নত প্রশিক্ষণ সুবিধা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের উদ্যোগে রোববার (১৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত সেমিনারে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়, যা ‘বিশ্ব মেরুদণ্ড দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজন করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার মধ্যে প্রতি পাঁচজনের মধ্যে প্রায় চারজন জীবনের কোনো না কোনো সময় স্পাইন (মেরুদণ্ড) ব্যথা বা কোমরব্যথায় ভুগে থাকেন। তাই মেরুদণ্ডের সমস্যা ও কোমরব্যথা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সঠিক শারীরিক ভঙ্গি এবং আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, স্পাইন (মেরুদণ্ড) মানবদেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মেরুদণ্ডের সমস্যা ছাড়া জীবনযাপন করা মানুষের পক্ষে কঠিন। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক ক্ষয়জনিত পরিবর্তন ও বিভিন্ন সমস্যা ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত উন্নতি করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, মেরুদণ্ড সুস্থ ও সবল রাখতে আমাদের যা কিছু করা প্রয়োজন, তার অনেক কিছুই আমাদের জানা নেই। জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ, সুষম খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম এবং শারীরিক পরিশ্রমের মতো বিষয়গুলো মেরুদণ্ডের সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এ.এফ.এম মোমতাজ হক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মেরুদণ্ডের বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করে আসছি। তবে আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা। দক্ষ জনবল তৈরির পাশাপাশি আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, উন্নত প্রশিক্ষণব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত সুবিধা জরুরি।
নিউরোসার্জারির চিকিৎসক ডা. মো. আশিক আহসান মন্তব্য করেন, মেরুদণ্ডের সমস্যা বা কোমরব্যথা একটি বৈশ্বিক স্বাস্থ্যসমস্যা। শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়া এবং দীর্ঘ সময় বসে থাকার প্রবণতা বাড়ছে। অতিরিক্ত ওজন, অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, রাত জাগা এবং নগরজীবনের মানসিক চাপ মেরুদণ্ডের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
নিউরোসার্জারি বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. মো. ইমাম হোসেন খান বলেন, মেরুদণ্ড সুস্থ রাখতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা, ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার করা, শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং উচ্চতা অনুযায়ী উপযুক্ত ওজন বজায় রাখা জরুরি। দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজকর্মের সময়ও মেরুদণ্ড আঘাত পেতে পারে বা ব্যথার সৃষ্টি হতে পারে। প্রচলিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি পাঁচজনের মধ্যে প্রায় চারজন জীবনের কোনো না কোনো সময় কোমরব্যথায় ভুগতে পারেন।
নিউরোসার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. কানিজ ফাতেমা ইশরাত জাহান (রিফাত) বলেন, আজীবন মেরুদণ্ডের সুস্থতা বজায় রাখতে হলে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সঠিক শারীরিক ভঙ্গি ও কর্মপদ্ধতি মেনে চলতে হবে। কর্মক্ষেত্র থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সঠিক শারীরিক ভঙ্গি বজায় রাখা জরুরি, এমনকি দাঁড়ানো বা বসার ক্ষেত্রেও মেরুদণ্ড সোজা রাখা প্রয়োজন।
অন্যান্য বক্তারা উল্লেখ করেন, মেরুদণ্ডের সমস্যা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যসমস্যা নয়; এটি দেশের অর্থনীতি ও কর্মক্ষমতার সঙ্গেও সরাসরি জড়িত। কোমরব্যথার কারণে কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়, উৎপাদনশীলতা কমে এবং চিকিৎসাব্যয় বৃদ্ধি পায়। প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী কোমরব্যথার কারণে প্রায় ১২ লাখ কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। তাই ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সামাজিক ও জাতীয় পর্যায়ে প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।
ঢামেক হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডা. আশিক আহসান ও নিউরোসার্জারি বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. মো. ইমাম হোসেন খান সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সেমিনারের আগে একটি সচেতনতামূলক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন